StudyWithGenius

WBBSE Madhyamik History Suggestion 2022 (NEW Syllabus)- চতুর্থ অধ্যায়ঃ সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট ও বিশ্লেষণ | Chapter Wise Suggestion, PDF Download

Madhyamik History Suggestion 2022
মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২(2022) | দশম শ্রেণীর ইতিহাস –চতুর্থ অধ্যায়ঃ “সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট ও বিশ্লেষণ”  প্রশ্ন উত্তর 

Madhyamik History Suggestion 2022 ” মাধ্যমিক  ইতিহাস –  চতুর্থ অধ্যায়ঃ ” সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট ও বিশ্লেষণ “MCQ প্রশ্ন উত্তর  “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik / WB Madhyamik / MP Exam / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE Madhyamik Exam / Madhyamik Bengali Suggestion 2022 / Madhyamik Class 10th / Class X / Madhyamik Pariksha) পরীক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে StudywithGenius.in এর পক্ষ থেকে মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ইতিহাস পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন (Madhyamik History Suggestion 2022 / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE History Suggestion / Madhyamik Class 10th History Suggestion / Class X History Suggestion / Madhyamik Pariksha History Suggestion / History Madhyamik Exam Guide / MCQ , Short , Descriptive  Type Question and Answer. / Madhyamik History Suggestion 2022 FREE PDF Download) উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করা হলাে। ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থীদের উপকারে লাগলে, আমাদের প্রয়াস  মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ইতিহাস পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন সফল হবে।

Madhyamik History Suggestion 2022

Madhyamik History Suggestion 2022 (মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২) –চতুর্থ অধ্যায়ঃ ” সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট ও বিশ্লেষণ প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই Madhyamik History Suggestion 2022 (মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন) –চতুর্থ অধ্যায়ঃ ” সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট ও বিশ্লেষণ” MCQ, সংক্ষিপ্ত, অতিসংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর  গুলি আগামী সালের পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট। আপনারা যারা মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর  ইতিহাস 2022 পরীক্ষার সাজেশন খুঁজে চলেছেন, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্নপত্র ভালো করে পড়তে পারেন। এই পরীক্ষা তে কোশ্চেন গুলো আসার সম্ভাবনা খুব বেশি।

বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১): চতুর্থ অধ্যায়ঃ "সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট ও বিশ্লেষণ" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022
1. 
ব্যারাকপুর সেনাছাউনিতে বিদ্রোহ করেন—

2. 
মঙ্গল পাণ্ডের ফাঁসি হয়—

3. 
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ’ বলেছিলেন—

4. 
কার্ল মার্কস ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে বলেছেন—

5. 
'Eighteen Fifty Seven' গ্রন্থটির রচয়িতা—

6. 
ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অবসান ঘটে—

7. 
মহারানির ঘোষণাপত্র (১৮৫৮ খ্রি.) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়—

8. 
*মহারানির ঘোষণাপত্র (১৮৫৮ খ্রি.) অনুযায়ী ভারতের ‘রাজপ্রতিনিধি’ হিসেবে প্রথম নিযুক্ত হন—

9. 
'ভাইসরয়’ কথার অর্থ হল—

10. 
'সভাসমিতির যুগ' হিসেবে পরিচিত—

11. 
ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হল—

12. 
জমিদার সভা প্রতিষ্ঠিত হয়—

13. 
জমিদার সভার সভাপতি ছিলেন—

14. 
ভারতসভার প্রথম সভাপতি ছিলেন-

15. 
ভারতসভার প্রাণপুরুষ বলা হয়—

16. 
‘বেঙ্গলি’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন—

17. 
হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠিত হয়—

18. 
হিন্দুমেলার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন—

19. 
'আনন্দমঠ' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন—

20. 
'ভারতমাতা’ চিত্রটি আঁকেন—

21. 
‘বিরূপ বজ্র’ ব্যঙ্গচিত্রের শিল্পী হলেন—

 

 

Thank You

 

 

 

 

 

 

Join our social networks below and stay updated with latest contests, videos, internships and jobs!
YouTube | LinkedIn | Instagram | Facebook | Pinterest

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১): চতুর্থ অধ্যায়ঃ "সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট ও বিশ্লেষণ" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022

1. সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় কত খ্রিস্টাব্দে?

উত্তর: সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে।

2. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের সময় ভারতের বড়োেলাট বা গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের সময় ভারতের বড়োলাট বা গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।

3. দিল্লির শেষ মুঘল সম্রাট কে ছিলেন?

উত্তর: দিল্লির শেষ মুঘল সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ।

4. নানাসাহেব কে ছিলেন?

উত্তর: নানাসাহেব ছিলেন পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও-এর দত্তকপুত্র এবং ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের একজন অন্যতম নেতা।

5. তাঁতিয়া তোপি-র আসল নাম কী?

উত্তর: তাঁতিয়া তোপি-র আসল নাম রামচন্দ্র পাণ্ডুরঙ্গ তোপি।

6. ডিসরেলি কে ছিলেন?

উত্তর: ডিসরেলি ছিলেন ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের সময়কালে ইংল্যান্ডের টোরি পার্টির নেতা।

7. ‘ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া’ গ্রন্থটি কার লেখা?

উত্তর: ‘ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া’ গ্রন্থটি জওহরলাল নেহরুর লেখা।

8. মহারানির ঘোষণাপত্র করে জারি করা হয়?

উত্তর: ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর মহারানির ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।

9. ভারতের প্রথম ভাইসরয় কে ছিলেন?

উত্তর: ভারতের প্রথম ভাইসরয় ছিলেন লর্ড ক্যানিং।

10. উনিশ শতককে ‘সভাসমিতির যুগ’ কে বলেছেন?

উত্তর: উনিশ শতককে ‘সভাসমিতির যুগ’ বলেছেন ঐতিহাসিক অনিল শীল।

11. ভারতে রাজনৈতিক চিন্তার পথিকৃৎ কে ছিলেন?

উত্তর: ভারতে রাজনৈতিক চিন্তার পথিকৃৎ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।

12. জমিদার সভা কবে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উত্তর: ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে জমিদার সভা প্রতিষ্ঠিত হয়।

13. জমিদার সভার সভাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: জমিদার সভার সভাপতি ছিলেন রাজা রাধাকান্ত দেব।

14. জমিদার সভার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?

উত্তর: জমিদার সভার প্রথম সম্পাদক ছিলেন প্রসন্নকুমার ঠাকুর।

15. জমিদার সভার প্রাণপুরুষ কে ছিলেন?

উত্তর: জমিদার সভার প্রাণপুরুষ ছিলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।

16. ‘ইন্ডিয়া লিগ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: ‘ইন্ডিয়া লিগ’ প্রতিষ্ঠা করেন শিশির কুমার ঘোষ।

17. ‘এ নেশন ইন মেকিং’ — কার আত্মজীবনী?

উত্তর: ‘এ নেশন ইন মেকিং’ – সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী।

18. হিন্দুমেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

19. মিলে সব ভারত সন্তান’ গানটি কে রচনা করেন?

উত্তর: ‘মিলে সব ভারত সন্তান’ গানটি সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেন।

20. ‘পভারটি অ্যান্ড আন-ব্রিটিশ রুল ইন ইন্ডিয়া’ গ্রন্থটি কার লেখা ?

উত্তর: ‘পভারটি অ্যান্ড আন-ব্রিটিশ রুল ইন ইন্ডিয়া’ গ্রন্থটি দাদাভাই নৌরজির লেখা।

21. ‘আনন্দমঠ’ কে রচনা করেন?

উত্তর: ‘আনন্দমঠ’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

22. ‘আনন্দমঠ’ কবে প্রকাশিত হয়?

উত্তর: ‘আনন্দমঠ’ ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়।

23. বঙ্কিমচন্দ্র কবে ‘বন্দেমাতরম’ সংগীত রচনা করেন?

উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে ‘বন্দেমাতরম’ সংগীত রচনা করেন।

24. কে ‘বন্দেমাতরম’ সংগীতের ইংরেজি অনুবাদ করেন?

উত্তর: শ্রী অরবিন্দ ঘোষ ‘বন্দেমাতরম’ সংগীতের ইংরেজি অনুবাদ

করেন।

25. ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসটি কোন্ পটভূমিতে রচিত?

উত্তর: বাংলাদেশে ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) পটভূমিতে ‘আনন্দমঠ’ রচিত।

26. ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থটি কার রচনা?

উত্তর: ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থটি স্বামী বিবেকানন্দের রচনা।

27. ‘গোরা’ উপন্যাসটি কে রচনা করেন?

উত্তর: ‘গোরা’ উপন্যাসটি রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

28. ‘গোরা’ উপন্যাসটি কোন্ পটভূমিতে রচিত?

উত্তর: বঙ্গভঙ্গ এবং স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিতে ‘গোরা’

উপন্যাসটি রচিত।

29. চিত্রকলার ইতিহাসে ‘আধুনিকতার পথিকৃৎ’ কাকে বলা হয় ?

উত্তর: চিত্রকলার ইতিহাসে ‘আধুনিকতার পথিকৃৎ’ বলা হয় গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ২): চতুর্থ অধ্যায়ঃ "সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট ও বিশ্লেষণ" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022

1. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?

উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে বড়োলাট লর্ড ক্যানিং-এর শাসনকালে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সিপাহি, রাজা-মহারাজা ও জনগণের অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল। নানা কারণে এই বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রত্যক্ষ কারণ ছিল– সিপাহিদের মধ্যে এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজের ব্যবহার সংক্রান্ত অসন্তোষ।

এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ ব্যবহার এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজের (টোটা) মোড়কটি দাঁতে কেটে বন্দুকের মধ্যে ভরতে হত। রটিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, ওই মোড়কটিতে গোরু ও শূকরের চর্বি মাখানো থাকে। ফলে ধর্মচ্যুত হওয়ার ভয়ে হিন্দু ও মুসলমান সিপাহিরা এই কার্তুজ ব্যবহার করতে অসম্মত হয়।

2. লক্ষ্মীবাঈ কেন ভারত ইতিহাসে স্মরণীয় ? 

উত্তর ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহে ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।

ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ-এর ভূমিকা :

[1] লর্ড ডালহৌসি ভারতে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে বহু দেশীয় রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ঝাঁসি। ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ অসীম সাহসিকতার সঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

[2] রানি লক্ষ্মীবাঈ গোয়ালিয়র দুর্গ জয় করেছিলেন কিন্তু শেষ অবধি ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হন। একজন নারী হয়েও ইংরেজদের বিরুদ্ধে বীরবিক্রমে যেভাবে তিনি যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন সেই কারণে ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয়।

3. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ’ বলা যায় না কেন?

উত্তর: ‘প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ’ না বলার কারণ : সুরেন্দ্রনাথ সেন, রমেশচন্দ্র মজুমদার প্রমুখ ঐতিহাসিক ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ বলতে রাজি নন। তাঁদের মতে—

[1] সমস্ত ভারতবাসী এই বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেনি। বরং অনেক ভারতীয় রাজা, শিখ ও গোর্খা সৈনিক বিদ্রোহ দমনে ইংরেজ সরকারকে সাহায্য করেছিল।

[2] | বিদ্রোহীদের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। তা ছাড়া ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশলাভ করেনি।

4. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালিদের মনোভাব কেমন ছিল?

উত্তর: শিক্ষিত বাঙালিরা ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের বিরোধিতা করে।

বাঙালি মনোভাবের পরিচিতি :

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব : কিশোরীচাঁদ মিত্র, শম্ভুচন্দ্র মুখার্জি, হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রমুখের মতে, এটি ছিল মূলত সৈনিকদের বিদ্রোহ। রাজা রাধাকান্ত দেব, কালীপ্রসন্ন সিংহ, হরেন্দ্র ঘোষ বিদ্রোহী সিপাহিদের নিন্দা ও সরকারকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

প্রতিষ্ঠান : হিন্দু ও মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল যথাক্রমে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ও মহামেডান অ্যাসোসিয়েশন। সিপাহি বিদ্রোহের বিরোধিতা করার প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানগুলি। নিজেদের সুযোগসুবিধা লোপ পাবে এই ভয়ে শিক্ষিত বাঙালিরা বিদ্রোহ দমনে উৎসাহী ছিল।

5. মহারানির ঘোষণাপত্র (১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ) কী?

উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ দমনের পর ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়ার পক্ষ থেকে একটি ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।

মহারানির ঘোষণাপত্র : এলাহাবাদে এক দরবারে (১ নভেম্বর, ১৮৫৮ খ্রি.) লর্ড ক্যানিং এই ঘোষণাপত্রটি পেশ করেন—

[1] স্বত্ববিলোপ নীতির অবসান হবে।

[2] যোগ্যতা অনুসারে ভারতীয়রা সরকারি পদে নিযুক্ত হতে পারবে।

[3] ইংরেজরা আর রাজ্যবিস্তার করবে না।

[4] সরকার ভারতীয়দের ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না ইত্যাদি।

ঘোষণাপত্রটি আপাতদৃষ্টিতে উদার প্রকৃতির মনে হলেও বাস্তবে তা ছিল না।

6. ‘সভাসমিতির যুগ’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: উনিশ শতক ভারতের সাহিত্য-সংস্কৃতি, রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

সভাসমিতিসমূহ : বিভিন্ন প্রেসিডেন্সি শহরে এই সময় বহু বহু সভ সভাসমিতি গড়ে ওঠে।

কলকাতা : বঙ্গহিতকারী সভা, বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা, ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি, ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন, ইন্ডিয়ান লিগ, ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রভৃতি সমিতি গড়ে উঠেছিল।

বোম্বাই : বোম্বাই শহরে বোম্বাই নেটিভ অ্যাসোসিয়েশন, জাতীয় কংগ্রেস ইত্যাদি ছিল উল্লেখযোগ্য।

মাদ্রাজ : মাদ্রাজে মাদ্রাজ মহাজন সভা ছিল বিশেষ উল্লেখ্য। এইভাবে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সভাসমিতি ও তার শাখা প্রতিষ্ঠার জন্য অনিল শীল উনিশ শতককে ‘সভাসমিতির যুগ’ বলেছেন।

7. ভারতসভা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: উনিশ শতকে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক সভাগুলির মধ্যে ভারতসভা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্দেশ্য :

[1] দেশে জনমত গঠন করা।

[2] ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করা।

[3] হিন্দু-মুসলমানের মৈত্রীর প্রসার ঘটানো।

[4] রাজনৈতিক আন্দোলনে অশিক্ষিত মানুষদের যোগদানের ব্যবস্থা করা প্রভৃতি।

8. কবে, কারা হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর: উনিশ শতকের বাংলাদেশে যেসব জাতীয়তাবাদী সভাসমিতি গড়ে ওঠে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল হিন্দুমেলা।

প্রতিষ্ঠা:

প্রতিষ্ঠাকাল : ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুমেলার সূচনা হয়।

প্রতিষ্ঠাতা : নবগোপাল মিত্র, রাজনারায়ণ বসু এই মেলার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এক্ষেত্রে তাঁরা ঠাকুরবাড়ির গণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহযোগিতা পেয়েছিলেন।

দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলা, কারিগর-শিল্পী ও সাহিত্যিকদের উৎসাহ দেওয়া এবং ঐক্যভাব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই মেলার অবদান অনস্বীকার্য।

9. ‘হিন্দুমেলা’ প্রতিষ্ঠার দুটি উদ্দেশ্য লেখো।

উত্তর: উনিশ শতকের বাংলাদেশে যেসব জাতীয়তাবাদী সভাসমিতি গড়ে ওঠে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল হিন্দুমেলা (১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দ)।

উদ্দেশ্য :

[1] হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করা।

[2] প্রত্যেককে আত্মনির্ভর করে তোলা।

[3] সর্বভারতীয় চেতনা গড়ে তোলা।

[4] দেশীয় শিল্প, সাহিত্যকে উৎসাহদান প্রভৃতি।

10. জাতীয়তাবোধ বিকাশে আনন্দমঠের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর: ভারতের জাতীয়তাবোধ বিকাশের ক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্ৰ চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ উপন্যাসটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

আনন্দমঠ : ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসটি ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

সন্তান দল : সন্তান দলের আদর্শে দেশের যুবসমাজকে দেশের পরাধীনতার শৃঙ্খলমোচনের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

দেশীয় সংস্কৃতি : উপন্যাসে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

বন্দেমাতরম : এই সংগীতটি স্বাদেশিকতার বীজমন্ত্র ছিল। বিপ্লববাদের প্রেরণা ও শক্তি ছিল।

               দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ও জাতীয়তাবোধ জাগরণে উপন্যাসটির বিশেষ ভূমিকা ছিল।

11. ভারতে জাতীয়তাবোধ জাগরণে ‘বর্তমান ভারতগ্রন্থটির অবদান লেখো।

উত্তর স্বামী বিবেকানন্দের লেখা বর্তমান ভারত গ্রন্থটি ভারতের জাতীয়তাবোধ জাগরণে বিশেষ অবদান রেখেছিল।

অবদান :

দেশমুক্তির আহ্বান : এই গ্রন্থে বিবেকানন্দ বলেন, ‘হে ভারত ভুলিও না, তুমি জন্ম হইতেই মায়ের জন্য বলিপ্রদত্ত।’ তিনি দেশকে মাতৃরূপে কল্পনা করেন। দেশের মুক্তির জন্য আত্মোৎসর্গের আদর্শ তুলে ধরে তিনি সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

জাতীয়তার বাণী : বর্তমান ভারত গ্রন্থে এই বাণী এবং অভীঃ ও উত্তিষ্ঠিত জাগ্রত মন্ত্র দ্বারা স্বামী বিবেকানন্দ ভারতে জাতীয়তাবোধের সঞ্চার করেন এবং হতাশাগ্রস্ত দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেন।

12. রবীন্দ্রনাথের গোরা চরিত্রের কী বৈশিষ্ট্য ছিল ?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গোরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে উগ্র জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে গঠনমূলক ও সমন্বয়বাদী জাতীয়তাবাদের কথা তুলে ধরেছেন।

গোরা চরিত্রের বৈশিষ্ট্য :

[1] হিন্দুত্ববাদের প্রতি আকর্ষণ : বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষের মানসলোকের প্রতীকী চরিত্র হল গোরা। আইরিশ যুবক হয়েও হিন্দু পরিবারে লালিতপালিত হওয়ায় সে নিজের বিদেশি সত্তা ভুলে হিন্দুত্ববাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

[2] অন্যান্য ধর্মের উপর গুরুত্ব আরোপ : পরবর্তীকালে গোরার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে ও সে সকল ধর্মের উপর গুরুত্ব আরোপ করে।

[3] আত্মপ্রতিষ্ঠা ও মানবতাবোধ : আত্মপ্রতিষ্ঠা, অনুসন্ধানী মনোভাব, মানবতাবোধ প্রভৃতি হল গোরা চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

13. গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর বিখ্যাত কেন ?

উত্তর: গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবারের একজন সদস্য। তিনি বঙ্গীয় ঘরানার একজন চিত্রকর ও ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী হিসেবে বিখ্যাত হয়ে আছেন।

গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা :

[1] গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর তৎকালীন ভারতীয় ধনী ও অভিজাত সম্প্রদায়ের ক্রিয়াকলাপ নিয়ে নানা ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করেন। তাঁর ব্যঙ্গচিত্রগুলির মধ্যে অদ্ভুতলোক, বিরূপ বজ্র এবং নব হুল্লোড় প্রভৃতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

[2] গগনেন্দ্রনাথ তাঁর শিল্পকলার মাধ্যমে সমাজের নানান বিষয়কে তুলে ধরেছিলেন। প্রবাসী ও মডার্ন রিভিয়ু-তে তাঁর ব্যঙ্গচিত্রগুলি ছাপা হত।

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ৪ ): চতুর্থ অধ্যায়ঃ "সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট ও বিশ্লেষণ" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022

1. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?

উত্তর: লর্ড ক্যানিং-এর শাসনকালে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সিপাহি, রাজা-মহারাজা ও জনগণের অসন্তোষকে কেন্দ্র করে যে বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল, তা ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল সিপাহিদের মধ্যে এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজের ব্যবহার সংক্রান্ত অসন্তোষ।

বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ : এনফিল্ড রাইফেল নামক এক ধরনের বন্দুকের কার্তুজ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহের সূচনা হয়। 

  • বন্দুকের কার্তুজ (টোটা) একটি মোড়কের মধ্যে থাকত। মোড়কটি দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকের মধ্যে ভরতে হত। এসময় গুজব রটে যে, ওই মোড়কটিতে গোরু ও শুয়োরের চর্বি মাখানো থাকে।
  • ধর্মচ্যুত হওয়ার ভয়ে হিন্দু ও মুসলমান সিপাহিরা এই কার্তুজ ব্যবহার করতে অসম্মত হয় এবং বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

মঙ্গল পাণ্ডের বিদ্রোহ : বাংলার ব্যারাকপুর সেনাছাউনিতে এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ সংক্রান্ত ঘটনায় ৩৪নং নেটিভ ইনফ্যান্ট্রি-র সৈনিক মঙ্গল পাণ্ডে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বিচারে তাঁর ফাঁসি হয়।

মিরাটে বিদ্রোহ : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৪ এপ্রিল মিরাট সেনানিবাসের ৩নং নেটিভ ক্যাভালরির ৯০ জন সিপাহি এনফিল্ড রাইফেলের চর্বি মাখানো কার্তুজ ব্যবহার করতে অস্বীকার করে। ৯ মে তাদের ৮৫ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মিরাটের সিপাহিরা ১০ মে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

                তাই বলা যায়, বিভিন্ন কারণে সিপাহিদের মধ্যে যে অসন্তোষ ছিল কার্তুজের ব্যবহারকে কেন্দ্র করেই তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল।

2. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের ফলাফল আলোচনা করো।

উত্তর ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। লেপেল গ্রিফিন-এর মতে, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ ভারতের আকাশ থেকে বহু মেঘ দূর করেছিল (The Revolt of 1857 swept the Indian Sky clear of many clouds)।

ফলাফলসমূহ :

[1] কোম্পানি শাসনের অবসান : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের পর ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। কোম্পানির বদলে ইংল্যান্ডের মহারানি ভিক্টোরিয়া ভারতের শাসনভার গ্রহণ করেন। ভারত শাসনের জন্য রাজপ্রতিনিধি বা ভাইসরয় নিযুক্ত হন। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইন পাস হয়।

[2] ক্ষয়ক্ষতি : বিদ্রোহের সময় বিদ্রোহী ও শাসক— উভয়পক্ষই ও সমর্থন নিষ্ঠুরতা দেখায়। ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসের ফলে প্রচুর পরিমাণে হয়। এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

[3] শাসনকাঠামোর পরিবর্তন : ইংল্যান্ডের যে সংস্থাগুলির মাধ্যমে ভারতের শাসনকার্য পরিচালিত হত সেগুলির পরিবর্তন ঘটে। ১৫ সদস্যের ইন্ডিয়া কাউন্সিল গঠিত হয়। এই কাউন্সিলের সভাপতি হন ভারত-সচিব (Secretary of the State for India)। তিনি ছিলেন ভারত বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ মন্ত্রীসভার একজন মন্ত্রী।

[4] সামরিক সংস্কার : সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহ শুরু হওয়ার জন্য এই বিভাগে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। যেসব জাতির সৈন্যরা বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিল তাদের ‘অসামরিক’ আর যেসব জাতির সৈন্যরা বিদ্রোহ দমনে সরকারকে সাহায্য করেছিল তারা ‘সামরিক’ জাতি হিসেবে আখ্যা পায়। পাঠান, শিখ, গোর্খাদের বেশি সংখ্যায় সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়। গোলন্দাজ বাহিনীতে কেবল ইংরেজদের নিয়োগ করা হয়। ইউরোপীয় সৈন্যের অনুপাত বৃদ্ধি করে বিভেদনীতি প্রয়োগ করা হয়।

[5] নতুন আদর্শ : বিদ্রোহ দমন করে এলাহাবাদের এক দরবারে মহারানির ঘোষণাপত্র জারি করা হয়। সম-অধিকার, রাজাদের দত্তকপুত্র গ্রহণ করা, রাজ্যজয় না করা, প্রজাস্বাধীনতার কথা ঘোষণা করা হয়। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে Indian Council Act পাস করে বড়োলাটের কাউন্সিলে ভারতীয় সদস্য নেওয়ার ব্যবস্থা হয়। প্রদেশেও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এভাবে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ ভারতে এক নবযুগের সূচনা করে।

3. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের চরিত্র ও প্রকৃতি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের প্রকৃতি : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। একপক্ষের ঐতিহাসিকরা বলেন, এটি ছিল নিছক সিপাহি বিদ্রোহ। অপরপক্ষ বলেন, এটি ছিল জাতীয় আ দালন। তা ছাড়াও কেউ কেউ আবার এই বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম, সামন্ততান্ত্রিক প্রতিবাদ, কৃষক বিদ্রোহ, মুসলিম চক্রান্ত প্রভৃতি নানাভাবে অভিহিত করেছেন।

[1] সিপাহি বিদ্রোহ: ইংরেজ ঐতিহাসিক চার্লস রেক্স, হোমস এবং ভারতীয়দের মধ্যে কিশোরীচাঁদ মিত্র, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে নিছক সিপাহি বিদ্রোহ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের বক্তব্য— (i) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের চালিকাশক্তি ছিল সিপাহিরা। তাদের অসন্তোষ থেকেই বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল। (ii) এই বিদ্রোহে ভারতীয় জাতীয় চেতনার অগ্রদূত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি যোগদান করেনি বা ভারতের সমস্ত অঞ্চলের রাজারা আন্দোলনকে সমর্থন করেনি।

[2] জাতীয় আন্দোলন : ঐতিহাসিক নর্টন, জন কে, কার্ল মার্কস প্রমুখ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে জাতীয় বিদ্রোহ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে যোগদান করেছিল; বিদ্রোহীরা দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ‘সম্রাট’ বলে ঘোষণা করে ভারতবর্ষে এক নতুন শাসনব্যবস্থা স্থাপনে সচেষ্ট হয়েছিল।

[3] ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম : স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর সাভারকর ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলে অভিহিত করেছেন।

[4] সামন্ততান্ত্রিক বিদ্রোহ: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের কারণ হিসেবে অনেকেই সামন্তদের অসন্তোষকে চিহ্নিত করেছেন। ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার একে সামন্ততন্ত্রের মৃত্যুকালীন আর্তনাদ বলে অভিহিত করেছেন।

[5] মুসলিম চক্রান্ত : ঐতিহাসিক আই এইচ কুরেশি ও সৈয়দ মইদুল হক ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে মুসলিম চক্রান্ত বলে অভিহিত করেছেন। তারা এই বিদ্রোহে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের পুনঃপ্রতিষ্ঠা লক্ষ করে এরূপ মন্তব্য করেছেন।

মূল্যায়ন : হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় এবং অধ্যাপক সুশোভন সরকার এই বিদ্রোহকে জাতীয় সংগ্রাম বলেই মনে করেন। তাঁরা বলেন, এই বিদ্রোহের প্রকৃতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিদ্রোহীদের দেশের প্রতি ভালোবাসার কোনো অভাব ছিল না।

       তা ছাড়া এই বিদ্রোহ শুধুমাত্র সিপাহিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এতে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষও শামিল হয়েছিল।

4. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ঘটনাকে কি ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ বলা যায়?

উত্তর: ভূমিকা : ভারত ইতিহাসে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ঘটনাকে কেউ কেউ সিপাহি বিদ্রোহ বলেছেন।

‘সিপাহি বিদ্রোহ’ বলার কারণ :

সূচনা : ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতবাসীর বহু ক্ষোভ জমা থাকলেও এই বিদ্রোহের মতো এত বড়ো বিদ্রোহ এর আগে কখনও হয়নি। ভারতীয় সিপাহিরাই এই বিদ্রোহের সূচনা করে।

অংশগ্রহণ : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ঘটনায় যারা অংশগ্রহণ করেছিল তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল দেশীয় সিপাহিরা।

নেতৃত্ব : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের প্রধান নেতা-নেত্রীরা বেসামরিক ব্যক্তি হলেও তারা সিপাহিদের দ্বারা সমর্থিত ছিল। এই বিদ্রোহের প্রকৃত নেতৃত্বে ছিল সিপাহিরাই। সেনাছাউনি থেকে বিদ্রোহকে জনগণের মধ্যে তারাই ছড়িয়ে দেয়। সরকারি সৈন্যদের স্ততান্ত্রিক সঙ্গে সম্মুখসমরে তারাই লড়াই করে।

বিস্তার : ব্রিটিশ ভারতের যেসব সেনাছাউনিতে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল সেই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে বিদ্রোহ ছড়িয়েছিল। যেসব সেনাছাউনিতে বিদ্রোহ হয়নি সেখানকার অবস্থা স্বাভাবিক ছিল।

শাস্তিভোগ: বিদ্রোহের সূচনায় অংশগ্রহণে, নেতৃত্বে যেহেতু সিপাহিদের প্রধান ভূমিকা ছিল তাই বিদ্রোহ শেষে সিপাহিদেরই বেশি খ্রস্টাব্দের শাস্তিভোগ করতে হয়। কামানের গোলা, বন্দুকের গুলি বা ফাঁসির দড়িতে তাদের প্রাণ দিতে হয়।

বিরুদ্ধ মত : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহে দেশীয় সিপাহিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল—এ কথা অনস্বীকার্য। কিন্তু এ কথাও সত্য যে, সব দেশীয় সিপাহি বিদ্রোহে যোগদান করেনি। নাম্বুদ্রিপাদ দেখিয়েছেন, যত সংখ্যক সিপাহি বিদ্রোহ করেছিল ততোধিক সিপাহি বিদ্রোহ দমনে অংশ নিয়েছিল।

মূল্যায়ন : যুক্তি, তথ্য ও বিরুদ্ধ মত বিশ্লেষণ করে এ কথা স্বীকার করতেই হয় যে, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ঘটনা ছিল অনেকাংশে সিপাহি বিদ্রোহ। কোথাও কোথাও এর পিছনে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় জনসমর্থন ছিল। চার্লস রেক্স, কে ম্যালেসন এবং দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় একই মত ব্যক্ত করেছেন।

5. মহারানির ঘোষণাপত্রের (১৮৫৮ খ্রি.) ঐতিহাসিক তাৎপর্য কী ?

উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের পর ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর এলাহাবাদের দরবারে লর্ড ক্যানিং ‘মহারানির ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন। ওই বছরেই ২ আগস্ট ভারত শাসন আইনের দ্বারা কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে এবং মহারানি ভিক্টোরিয়া সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করেন। গভর্নর জেনারেলের পরিবর্তে ভাইসরয় পদ তৈরি হয়। স্বত্ববিলোপ নীতির অবসান, দেশীয় রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ, প্রত্যেক ভারতীয়কে ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান, যোগ্যতা অনুযায়ী ভারতীয়দের সরকারি চাকরিপ্রদান প্রভৃতি আশ্বাসবাণী উচ্চারিত হয় এই ঘোষণাপত্রে।

তাৎপর্য : কিন্তু ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একশো বছরের অপশাসনে সৃষ্ট গভীর ক্ষতে প্রলেপ দিতে গিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হলেও তা সঠিকভাবে পালিত হয়নি। প্রথমত, এই ঘোষণাপত্রের দ্বারা ব্রিটিশ সরকার বিদ্রোহের কারণগুলি অনুধাবন করে সেগুলির প্রতিকারের চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়ত, দেশীয় রাজন্যবর্গকে স্বশাসনের অধিকার দেওয়া হলেও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিরোধে ভাইসরয়ের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে ঘোষণা করা হয়। তৃতীয়ত, এই ঘোষণাপত্রের দ্বারা সামন্ততান্ত্রিক দেশীয় রাজন্যবর্গ ও ভূস্বামী শ্রেণির আনুগত্যের উপরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, শিক্ষিত শ্রেণির দাবিদাওয়াকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। চতুর্থত, এই ঘোষণাপত্রের দ্বারা পুরোনো সাম্রাজ্যবাদী শাসনের মূল চরিত্রের কোনো বদল ঘটেনি, পরিবর্তন ঘটেছিল কেবল বহিরঙ্গেই।

               এই সকল কারণে ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার ঘোষণাপত্রকে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অধ্যায়ের সূচনাকাল বলে চিহ্নিত করেছেন। বিপানচন্দ্রও এই ঘোষণাপত্রকে ‘রাজনৈতিক ধাপ্পা’ বলেছেন।

6. জাতীয়তাবোধ বিকাশের ক্ষেত্রে ‘বর্তমান ভারত গ্রন্থটির ভূমিকা লেখো।

উত্তর: ভূমিকা : প্রথম ইংরেজ শাসন বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়। আর বিভিন্ন উপাদানের প্রভাবে বাংলাতেই প্রথম জাতীয়তাবোধের স্ফুরণ ঘটে। ইংরেজ শাসনের বিরোধিতা, দেশের মুক্তিচিন্তা, দেশবাসীর অনৈক্য ও দুঃখযন্ত্রণা এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল। এ যুগে আবির্ভূত কয়েকজন মনীষী তাঁদের রচনার মাধ্যমে দেশবাসীর মর্মবেদনা ফুটিয়ে তোলেন। তাঁরা দেশ ও দেশবাসীর মুক্তির পথ দেখান।

বর্তমান ভারত : জাতীয়তাবোধ জাগরণের ক্ষেত্রে বহু মনীষীর লেখা গ্রন্থের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের লেখা ‘বর্তমান ভারত’ (১৯০৫ খ্রি.) গ্রন্থটি ছিল বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

বিষয়বস্তু : সভ্যতার বিভিন্ন পর্যায়ে রাজশক্তির বর্ণনা, ভারতের সমাজ-সংস্কৃতি-ধর্ম ও রামকৃষ্ণের বাণী, ভারতীয় জীবনাদর্শ— এই গ্রন্থের মূল বিষয়। বৈদিক যুগ থেকে বর্তমানকাল, ব্রাহ্মণ্য আধিপত্য থেকে শূদ্র জাগরণ পর্যন্ত ভারতীয় সমাজের রূপরেখা এই গ্রন্থে চিত্রিত হয়েছে।

জাতীয়তাবাদ : স্বামী বিবেকানন্দ সমগ্র দেশবাসীকে অখণ্ডরূপে দেখেছিলেন। সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সমগ্র দেশবাসীর প্রতি তিনি বলেন, “হে ভারত, ভুলিও না, তুমি জন্ম হইতেই মায়ের জন্য বলিপ্রদত্ত। .ভুলিও না নীচ জাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর তোমার রক্ত, তোমার ভাই।”

মুক্তির বাণী : তিনি দেশকে মাতৃরূপে কল্পনা করেন। দেশের মুক্তির জন্য আত্মবলিদানের আদর্শ তুলে ধরে তিনি সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

দেশ গঠনের আহ্বান : স্বামী বিবেকানন্দ বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত ভারতবর্ষকে নতুনভাবে গঠন করার জন্য যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানান। পাশ্চাত্য প্রদেশগুলির কর্মচঞ্চলতা, গতিময় জীবন তাঁকে প্রভাবিত করেছিল। তিনি তাই ভারতবাসীকেও কর্মময় জীবনে লিপ্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। এজন্য দেশের যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি অভীঃ এবং উত্তিষ্ঠিত জাগ্রত মন্ত্রের কথা বলেন। তিনি সব দেবদেবীকে বাদ দিয়ে একমাত্র ভারতমাতাকে আরাধ্যা দেবী করতে বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলার দ্বারা স্বর্গের কাছাকাছি যাওয়া যায়’। তিনি চেয়েছিলেন, প্রাচ্য-পাশ্চাত্য, প্রাচীন ও আধুনিক ভারতীয় জীবনধারার সমন্বয়ে সমস্ত ভারতবাসীকে নিয়ে গড়ে উঠুক এক নতুন ভারত।

অবদান : বিদেশি ইংরেজ শাসনে নির্যাতিত, শোষিত হীনম্মন্যতায় আক্রান্ত ভারতবাসীকে জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। এই গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি যে বাণী দেন, তা পরবর্তীকালের বিপ্লবী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রেরণা জোগায়। তাঁর বাণী হতাশ ভারতীয়দের রক্তে মাদকতার সঞ্চার করে। ভারতবাসীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস জেগে ওঠে। এজন্য আর জি প্রধান তাঁকে ‘ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

7. ‘গোরা’ উপন্যাসে কীভাবে জাতীয়তাবোধ ফুটে উঠেছে সেই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করো।

উত্তর: ভূমিকা : যেসব মনীষীদের লেখায় ভারতীয় জাতীয়তাবোধ ফুটে উঠেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ উপন্যাস।‘গোরা’ উপন্যাসে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র গোরার বক্তব্য ও কার্যকলাপের মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে গঠনমূলক ও সমন্বয়বাদী জাতীয়তাবাদের কথা বলেছেন।

রচনা ও প্রকাশ :

  • ‘গোরা’ উপন্যাসটি লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • ‘গোরা’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে।

গোরা উপন্যাসের পটভূমি : 

বিশ শতকের প্রথম দশকে বাংলা রাজনৈতিক আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে অর্থাৎ শুরু হয় বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জাতীয় স্তরে শুরু হয় উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিবিরোধী ছিলেন। বিংশ শতকের এই প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ গোরা উপন্যাসটি রচনা করেন।

গোরা উপন্যাসের মূল বিষয় : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের সময় এক আইরিশ যুদ্ধে মারা যান। তার আসন্নপ্রসবা স্ত্রী ব্রাহ্মণ কৃষ্ণদয়ালের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি এক পুত্রসন্তান প্রসব করেই মারা যান। এই ছেলেটির নাম গোরা। কৃষ্ণদয়ালবাবুর নিঃসন্তান স্ত্রী আনন্দময়ী নিজের সন্তানের মতো লালনপালন করেন তাকে। তার পরিচয় গোপন ছিল বলে গোরা নিজেকে ব্রাক্ষ্মণ সন্তান বলেই জানত।

বৈশিষ্ট্য : এই উপন্যাসের বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

জাতীয়তাবোধ : বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষের মানসলোকের প্রতীকী চরিত্র হল গোরা। জাতীয়তাবোধের বিকাশে বহু উপন্যাসের মধ্যে ‘গোরা’ উপন্যাসটি বিশিষ্টতার দাবি রাখে।

বিরোধ-সমন্বয় : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর এই উপন্যাসে সমকালীন যুগজীবনের প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন। এক দ্বন্দ্ব ও তা থেকে উত্তীর্ণ এক সামগ্রিক পরিমণ্ডল এখানে চিত্রিত হয়েছে। এই উপন্যাসে ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে মানবসত্যের বিরোধ ও সমন্বয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাতিভেদ, বর্ণবৈষম্য, অভাব ও দারিদ্র্যের সমাধানের ইঙ্গিতও রবীন্দ্রনাথ দিয়েছেন।

মধ্যবিত্ত মানসিকতা : এই উপন্যাসে শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের মানসিকতা ফুটে উঠেছে। একটি সময়ের (স্বদেশি আন্দোলনের সময়) সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবধারা, বিক্ষোভ আন্দোলন, দেশাত্মবোধের প্রথম স্ফুরণের চাঞ্চল্য, ধর্ম, ভাবাবেগ স্থান পেয়েছে। বাঙালির আত্মপ্রতিষ্ঠা, অনুসন্ধানী মনোভাব, কৌতূহল ও মানবতাবোধ ফুটে উঠেছে।

সংকীর্ণতা : আইরিশ যুবক গোরা হিন্দু পরিবারে লালিতপালিত হয়ে নিজের বিদেশি সত্তা ভুলে গিয়ে বাঙালি হয়ে যায়। কিন্তু বাঙালি মেয়ে তাকে মেনে নিতে পারেনি বা গোরাকে বাঙালি বলে মনে করেনি। সমাজের অন্দরে বাসা বাঁধা এই সংকীর্ণতা গোরা উপন্যাসে ফুটে উঠেছে।

অখণ্ডতা : রবীন্দ্রনাথের চেতনায় ভারতের অতীত-বর্তমান- ভবিষ্যৎ অখণ্ডভাবে ব্যক্ত হয়েছে। একটি জাতির সামগ্রিক পরিচয় গোরা চরিত্রের মধ্য দিয়ে চিত্রিত হয়েছে।

মন্তব্য : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘গোরা’ উপন্যাসের মাধ্যমে ভারতীয়দের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এক দিকনির্দেশ করেছেন। তাঁর নির্দেশিত পথ উগ্রতার নয়, বিভেদের নয়— সেবা, ভক্তি ও সমন্বয়ের।

8. উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির কীরূপ ভূমিকা ছিল?

অথবা, ভারতীয় জাতীয়তাবোধ বিকাশে গৈরিক ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

অথবা, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভারতমাতা চিত্রের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: ভূমিকা : অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। তাঁর আঁকা বিখ্যাত চিত্র হল ভারতমাতা। ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধ বিকাশে ভারতমাতা চিত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।

ভারতীয় জাতীয়তাবোধ বিকাশে ‘ভারতমাতা’ চিত্রের গুৰুত্ব / ভূমিকা :

[1] মায়ের ধারণা ও জাতীয়তাবাদ : ভারতমাতা চিত্রটি হল গৈরিক বসন পরিহিতা একাধারে এক দেবী ও মানবী। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই চিত্রে মায়ের ধারণার সঙ্গে জাতীয়তাবাদকে যুক্ত করেন।

[2] ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রকাশ : ভারতমাতা তাঁর চারটি হাতে ধরে আছেন ধানের গোছা, শুভ্রবস্ত্র, পুথি ও জপমালা। তাঁর পায়ের চারপাশে আছে সাদা পদ্মফুল। এগুলি সবই হল ভারতীয় ঐতিহ্যের ধারক, বাহক ও প্রতীকস্বরূপ।

[3] সমৃদ্ধ ভারতের প্রকাশ : ভারতমাতা চিত্রটির মাধ্যমে সমৃদ্ধ ভারতের চিত্র তুলে ধরা হয়। ধনধান্যসমৃদ্ধ শস্যশ্যামলা ভারত স্বয়ংসম্পূর্ণ। তার পাশাপাশি ভারত আধ্যাত্মশক্তি ও নারীশক্তিতেও বলীয়ান।

[4] ভারতবর্ষের প্রতীক : ভারতমাতা চিত্রটি ছিল ভারতবর্ষের প্রতীক। এই চিত্রটি ভারতের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জাতীয়তাবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে ভারতমাতা চিত্রটি জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবোধের সঞ্চার করে।

উপসংহার : স্বদেশি যুগে বিভিন্ন সভাসমাবেশে ভারতমাতা চিত্রটি সাজানো থাকত। ভগিনী নিবেদিতা ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন যে, এই চিত্রটির মাধ্যমে বিমূর্ত জাতীয়তাবাদ মূর্ত হয়ে উঠেছে।

ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ৮ ): চতুর্থ অধ্যায়ঃ "সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট ও বিশ্লেষণ" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022

1. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের চরিত্র ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।

2. উনিশ শতকের ভারতে কী কী কারণে জাতীয়তাবোধের বিকাশ ঘটে?

3. ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধ বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্র ও স্বামী বিবেকানন্দের অবদানের মূল্যায়ন করো।

মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২(2022) | দশম শ্রেণীর ইতিহাস –চতুর্থ অধ্যায়ঃ ” সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট ও বিশ্লেষণ ”  প্রশ্ন উত্তর | Madhyamik History Suggestion 2022

Madhyamik History Suggestion 2022 ” মাধ্যমিক  ইতিহাস –  চতুর্থ অধ্যায়ঃ ” সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট ও বিশ্লেষণ “MCQ প্রশ্ন উত্তর  “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik / WB Madhyamik / MP Exam / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE Madhyamik Exam / Madhyamik Bengali Suggestion 2022 / Madhyamik Class 10th / Class X / Madhyamik Pariksha) পরীক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে StudywithGenius.in এর পক্ষ থেকে মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ইতিহাস পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন (Madhyamik History Suggestion 2022 / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE History Suggestion / Madhyamik Class 10th History Suggestion / Class X History Suggestion / Madhyamik Pariksha History Suggestion / History Madhyamik Exam Guide / MCQ , Short , Descriptive  Type Question and Answer. / Madhyamik History Suggestion 2022 FREE PDF Download) উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করা হলাে। ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থীদের উপকারে লাগলে, আমাদের প্রয়াস  মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ইতিহাস পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন সফল হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.