StudyWithGenius

WBBSE Madhyamik History Suggestion 2022 (NEW Syllabus)- তৃতীয় অধ্যায়ঃ প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা | Chapter Wise Suggestion, PDF Download

Madhyamik History Suggestion 2022
মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২(2022) | দশম শ্রেণীর ইতিহাস –তৃতীয় অধ্যায়ঃ ” প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা ”  প্রশ্ন উত্তর 

Madhyamik History Suggestion 2022 ” মাধ্যমিক  ইতিহাস –  তৃতীয় অধ্যায়ঃ “প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা “MCQ প্রশ্ন উত্তর  “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik / WB Madhyamik / MP Exam / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE Madhyamik Exam / Madhyamik Bengali Suggestion 2022 / Madhyamik Class 10th / Class X / Madhyamik Pariksha) পরীক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে StudywithGenius.in এর পক্ষ থেকে মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ইতিহাস পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন (Madhyamik History Suggestion 2022 / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE History Suggestion / Madhyamik Class 10th History Suggestion / Class X History Suggestion / Madhyamik Pariksha History Suggestion / History Madhyamik Exam Guide / MCQ , Short , Descriptive  Type Question and Answer. / Madhyamik History Suggestion 2022 FREE PDF Download) উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করা হলাে। ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থীদের উপকারে লাগলে, আমাদের প্রয়াস  মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ইতিহাস পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন সফল হবে।

Madhyamik History Suggestion 2022

Madhyamik History Suggestion 2022 (মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২) –তৃতীয় অধ্যায়ঃ ” প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই Madhyamik History Suggestion 2022 (মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন) –তৃতীয় অধ্যায়ঃ “প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা” MCQ, সংক্ষিপ্ত, অতিসংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর  গুলি আগামী সালের পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট। আপনারা যারা মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর  ইতিহাস 2022 পরীক্ষার সাজেশন খুঁজে চলেছেন, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্নপত্র ভালো করে পড়তে পারেন। এই পরীক্ষা তে কোশ্চেন গুলো আসার সম্ভাবনা খুব বেশি।

বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১): তৃতীয় অধ্যায়ঃ "প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022
1. 
ভারতে প্রথম অরণ্য আইন পাস হয় –

2. 
চুয়াড় বিদ্রোহ হয়েছিল—

3. 
সুই মুণ্ডা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন—

4. 
সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়েছিল—

5. 
সাঁওতালদের ঐক্যবদ্ধকরণের প্রতীকী রূপ ছিল—

6. 
সাঁওতালদের কাছ থেকে পণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা হত যে বাটখারা, তার নাম-

7. 
সাঁওতালদের কাছে পণ্য বিক্রয় করার জন্য ব্যবহার করা হত যে বাটখারা, তার নাম-

8. 
কোন্ বিদ্রোহ 'উলগুলান' নামে পরিচিত?

9. 
মুণ্ডা বিদ্রোহের নেতা ছিলেন—

10. 
“সিং বোঙা’ হল-

11. 
‘ধরতি আবা’ কথার অর্থ হল-

12. 
‘ডিং খরচা’ নামে চাঁদা সংগ্রহ করা হত-

13. 
সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের অন্যতম নেতা ছিলেন-

14. 
তিতুমিরের প্রকৃত নাম ছিল—

15. 
'পাগলপন্থী' বিদ্রোহ হয়েছিল—

16. 
ভারতে প্রথম নীলচাষ শুরু হয়-

17. 
নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন—

18. 
বাংলাদেশের ‘ওয়াট-টাইলার’ নামে পরিচিত ছিলেন—

19. 
'বাংলার নানাসাহেব' বলা হয়—

20. 
পাবনা বিদ্রোহের নেতা ছিলেন—

 

 

Thank You

 

 

 

 

 

 

Join our social networks below and stay updated with latest contests, videos, internships and jobs!
YouTube | LinkedIn | Instagram | Facebook | Pinterest

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১): তৃতীয় অধ্যায়ঃ "প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022

1. ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনকালে প্রথম অরণ্য আইন কবে প্রবর্তিত হয় ?

উত্তর: ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনকালে প্রথম অরণ্য আইন ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে প্রবর্তিত হয়।

2. ‘জঙ্গলমহল’-এর আদি অধিবাসী কারা?

উত্তর: ‘জঙ্গলমহল’-এর আদি অধিবাসী ছিল চুয়াড়রা।

3. ‘চুয়াড়’ কথার অর্থ কী?

উত্তর: ‘চুয়াড়’ কথার অর্থ হল দুর্বৃত্ত ও নীচ জাতি।

4. ঘাটশিলা বা ধলভূমে চুয়াড় বিদ্রোহে প্রথম কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?

উত্তর: ঘাটশিলা বা ধলভূমে চুয়াড় বিদ্রোহে প্রথম নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জগন্নাথ ধল (সিং)।

5. চুয়াড় বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম লেখো।

উত্তর: চুয়াড় বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম হল— গোবর্ধন দিকপতি ও লাল সিং।

6. রানি শিরোমণি কে ছিলেন?

উত্তর: মেদিনীপুরের চুয়াড় বিদ্রোহের অন্যতম নেত্রী ছিলেন রানি শিরোমণি।

7. কোল বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম লেখো।

উত্তর: কোল বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম হল – বুদ্ধু ভগত ও জোয়া ভগত।

8. ‘হুল’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘হুল’ শব্দের অর্থ হল বিদ্রোহ।

9. ‘দামিন-ই-কোহ’ কথার অর্থ কী?

উত্তর: ‘দামিন-ই-কোহ’ কথার অর্থ হল পাহাড়ের প্রান্তদেশ।

10. ‘দিকু’ কারা?

উত্তর: সাঁওতালদের এলাকার বাইরে থেকে আসা মানুষজনকে সাঁওতালরা দিকু বলে ডাকত।

11. সাঁওতাল বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম লেখো।

উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম হল সিধু ও কানু।

12. ‘উলগুলান’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ‘উলগুলান’ বলতে বোঝায় চরম বিশৃঙ্খলা বা বিরাট তোলপাড়।

13. মুণ্ডা বিদ্রোহ কার নেতৃত্বে হয়েছিল?

উত্তর: মুণ্ডা বিদ্রোহ হয়েছিল বিরসা মুণ্ডার নেতৃত্বে।

14. ‘সিং বোঙা’ নামে কে পরিচিত?

উত্তর: ‘সিং বোঙা’ নামে পরিচিত বিরসা মুণ্ডা।

15. বিরসা মুণ্ডা কবে মারা যান?

উত্তর: বিরসা মুণ্ডা ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের ৯ জুন মারা যান।

16. ‘ছোটোনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন’ কবে পাস হয়?

উত্তর: ‘ছোটোনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন’ ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে পাস হয়।

17. সন্ন্যাসী বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম লেখো।

উত্তর: সন্ন্যাসী বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম হল ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরাণী।

18. সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে লেখা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসটির নাম কী?

উত্তর: সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে লেখা বঙ্কিমচন্দ্ৰ চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসটির নাম হল আনন্দমঠ।

19. ‘ওয়াহাবি’ কথার অর্থ কী?

উত্তর: ‘ওয়াহাবি’ কথার অর্থ হল নবজাগরণ।

20. ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত নাম কী?

উত্তর: ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত নাম হল তারিকা-ই-মহম্মদীয়া।

21. ‘তারিকা-ই-মহম্মদীয়া’ কথার অর্থ কী?

উত্তর: ‘তারিকা-ই-মহম্মদীয়া’ কথার অর্থ হল মহম্মদ প্রদর্শিত পথ।

22. ওয়াহাবি আন্দোলনের সূচনা কে করেন?

উত্তর: ওয়াহাবি আন্দোলনের সূচনা করেন মহম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাব।

23. ‘ওয়াহাবি’ কাদের বলা হয় ?

উত্তর: ওয়াহাবি ধর্মগোষ্ঠীর প্রবর্তক আবদুল ওয়াহাবের অনুগামীদের বলা হয় ওয়াহাবি।

24. ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল প্রবর্তক কে ছিলেন?*

উত্তর: ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল প্রবর্তক ছিলেন সৈয়দ আহমদ।

25. তিতুমিরের আসল নাম কী ?

উত্তর: তিতুমিরের আসল নাম হল মির নিশার আলি।

26. তিতুমির কোথায় ‘বাঁশের কেল্লা’ নির্মাণ করেন?

উত্তর: তিতুমির বারাসতের নারকেলবেড়িয়া গ্রামে ‘বাঁশের কেল্লা’ নির্মাণ করেন।

27. কবে বালাকোটের যুদ্ধ ঘটে?

উত্তর: ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে বালাকোটের যুদ্ধ ঘটে।

28.‘ফরাজি’ কথাটির অর্থ কী?

উত্তর: ‘ফরাজি’ কথাটির অর্থ হল ঈশ্বর নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক কর্তব্য।

29. পাগলপন্থী বিদ্রোহে কে নেতৃত্ব দেন?

উত্তর: পাগলপন্থী বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন ফকির করিম শাহের পুত্র টিপু শাহ।

30. ‘দাদন’ কথার অর্থ কী ?

উত্তর: ‘দাদন’ কথার অর্থ হল অগ্রিম অর্থ।

31. নীল বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম লেখো।

উত্তর: নীল বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম হল দিগম্বর বিশ্বাস ও বিরুচরণ বিশ্বাস।

32. নীল বিদ্রোহ কবে হয়েছিল?

উত্তর: নীল বিদ্রোহ ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালে হয়েছিল।

33. ‘নীলদর্পণ’ নাটকটির নাট্যকার কে ছিলেন?

উত্তর: ‘নীলদর্পণ’ নাটকটির নাট্যকার ছিলেন দীনবন্ধু মিত্র।

34. কত খ্রিস্টাব্দে ‘নীল কমিশন’ গঠিত হয় ?

উত্তর: ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ‘নীল কমিশন’ গঠিত হয়।

35. কবে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে?

উত্তর: ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ২): তৃতীয় অধ্যায়ঃ "প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022

1. চুয়াড় বিদ্রোহের কারণ কী ছিল?

উত্তর: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ১৭৯৮-৯৯ খ্রিস্টাব্দে মেদিনীপুর এলাকায় চুয়াড় বিদ্রোহ হয়েছিল।

কারণ:

[1] উচ্চহারে রাজস্ব আদায় : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মেদিনীপুর এলাকায় রাজস্ব আদায়ের অধিকার লাভ করার পর উচ্চহারে রাজস্ব আদায় করতে শুরু করে। এর ফলে এই অঞ্চলের জমিদার ও কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়।

[2] সূর্যাস্ত আইন : ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের । ফলস্বরূপ প্রবর্তিত সূর্যাস্ত আইনের প্রয়োগের দ্বারা অনেক জমিদারের জমিদারি হাতছাড়া হয়েছিল। এর ফলে তারা বিদ্রোহ করেছিল।

2. দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি’ বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: কোলরা হল বিহারের ছোটোনাগপুর অঞ্চলে বসবাসকারী এক উপজাতি গোষ্ঠী। তারা ইংরেজ, মহাজন বা বহিরাগত ‘দিকু’দের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করেছিল, তা কোল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে কোলরা প্রথম বিদ্রোহ করে। এই বিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।

দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি :

[1] কোল বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও ব্রিটিশ সরকার ছোটোনাগপুর অঞ্চলে ‘দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি’ নামে একটি নতুন অঞ্চল গঠন করে।

[2] ব্রিটিশ সরকার এই অঞ্চলে জমিদারদের হাত থেকে জমি গ্রাম প্রধানদের হাতে ফেরত দেওয়ার এবং ব্রিটিশ আইনকানুন কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

3. ‘দামিন-ই-কোহ’ কী?

উত্তর: দামিন-ই-কোহ: ‘দামিন-ই-কোহ’ কথার অর্থ হল পাহাড়ের প্রান্তদেশ। সাঁওতালরা বিভিন্ন কারণে নিজেদের এলাকা ছেড়ে রাজমহল পাহাড়ের প্রান্তদেশে বসবাস শুরু করেছিল। তারা বহু পরিশ্রম করে এখানের জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষযোগ্য ও বাসযোগ্য জমি তৈরি করেছিল। সাঁওতালদের এই নতুন অঞ্চলকেই বলা হয় ‘দামিন-ই-কোহ’।

4. সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ কী ছিল?

উত্তর: ‘দামিন-ই-কোহ’ বলে পরিচিত রাজমহল পাহাড়সংলগ্ন এলাকার সাঁওতালরা ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে জমিদার, মহাজন ও ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

কারণ: 

[1] অত্যধিক হারে রাজস্ব আদায় : সাঁওতালদের এলাকায় ১৮ বছরের মধ্যে ১০ গুণ রাজস্ব বৃদ্ধি করা হয়েছিল। অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করার জন্য সাঁওতালরা ক্ষুব্ধ হয়েছিল।

[2] মহাজনদের শোষণ: মহাজনরা সাঁওতালদের ঋণ দিয়ে ৫০-৫০০% পর্যন্ত সুদ আদায় করত। অতিরিক্ত সুদ ও নানা রকমভাবে শোষণের ফলে সাঁওতালরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। এ ছাড়া বহিরাগত ব্যবসায়ীদের প্রতারণা, রেলকর্মী ও ঠিকাদারদের অত্যাচার, খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা সাঁওতালদের ধর্মান্তরিতকরণের প্রচেষ্টা সাঁওতাল বিদ্রোহকে ত্বরান্বিত করেছিল।

5. ‘কেনারাম’ ও ‘বেচারাম’ কী?

উত্তর: ‘দামিন-ই-কোহ’ অঞ্চলে বহিরাগত ব্যবসায়ীরা দুই ধরনের বাটখারা ব্যবহার করত।

  • কেনারাম : ব্যবসায়ীরা যখন সাঁওতালদের কাছ থেকে কৃষিপণ্য কিনত তখন বেশি ওজনের বাটখারা ব্যবহার করত। এই বেশি ওজনের বাটখারা কেনারাম নামে পরিচিত ছিল।
  • বেচারাম : আবার ব্যবসায়ীরা যখন সাঁওতালদের লবণ, চিনি প্রভৃতি পণ্য বিক্রয় করত, তখন কম ওজনের বাটখারা ব্যবহার করত। এই কম ওজনের বাটখারাকে বলা হত বেচারাম।

6. মুণ্ডা বিদ্রোহের প্রধান লক্ষ্য কী ছিল ?

উত্তর: মুণ্ডা বিদ্রোহের লক্ষ্য : অরণ্যবাসী মুণ্ডাদের বিদ্রোহের পিছনে প্রধান লক্ষ্য ছিল নিম্নরূপ—

[1] দিকুদের বিতাড়ন : বহিরাগত ‘দিকু’ও ঠিকাদার শ্রেণির লোকেরা অর্থ উপার্জনের জন্য মুণ্ডাদের এলাকায় মাদক দ্রব্য বিক্রি শুরু করে। এতে মুণ্ডাদের চারিত্রিক অবক্ষয় ঘটলে তারা এই ‘দিকু’দের বি নের জন্য সোচ্চার হয় ও বিদ্রোহ করে।

[2] ব্রিটিশ শাসনের অবসান : ব্রিটিশ আমলে মুণ্ডাদের যৌথ কৃষি বা খুৎকাঠি প্রথায় ভাঙন ধরে। সরকার জমিতে ব্যক্তিগত কৃষিব্যবস্থা চালু করলে এবং ঔপনিবেশিক অরণ্য আইন (১৮৭৮ খ্রি.) দ্বারা মুণ্ডাদের থেকে অরণ্যের অধিকার কেড়ে নিলে মুণ্ডারা এই শাসনের অবসানের জন্য বিদ্রোহ করে।

7. ‘ভিল’ কারা?

উত্তর: ভিল : ভারতবর্ষের একটি প্রাচীনতম আদিবাসী সম্প্রদায় হল ভিল। গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের খান্দেশ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এই আদিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করত। এরা স্বাধীন ও স্বনির্ভর জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিল। ভিলরা বিভিন্ন কারণে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, যা ভিল বিদ্রোহ নামে ইতিহাসখ্যাত।

8. সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের কারণ লেখো।

উত্তর: ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সন্ন্যাসী-ফকিররা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

কারণ : সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের কারণগুলি হল নিম্নরূপ—

[1] অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় : বাংলায় ব্রিটিশ সরকারের ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা চালু হলে কৃষিজীবী সন্ন্যাসী-ফকিরদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা শুরু হয়।

[2] তীর্থকর : সন্ন্যাসী-ফকিররা মাঝে মাঝে দলবদ্ধভাবে নিজ নিজ তীর্থক্ষেত্রে তীর্থ করতে যেত। ব্রিটিশ সরকার তাদের উপর তীর্থকর আরোপ করলে তারা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

9. ‘তারিকা-ই-মহম্মদীয়া’-র গুরুত্ব কী?

উত্তর: তারিকা-ই-মহম্মদীয়া : ‘তারিকা-ই-মহম্মদীয়া’ শব্দের অর্থ হল মহানবি মহম্মদ প্রদর্শিত পথ। অষ্টাদশ শতকে মহম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাব (১৭০৩-৮৭ খ্রিস্টাব্দ) নামে এক ব্যক্তি ইসলাম ধর্মের সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। তাঁর প্রবর্তিত আন্দোলন ওয়াহাবি আন্দোলন নামে পরিচিত। ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত নাম তারিকা-ই-মহম্মদীয়া।

10. ওয়াহাবি আন্দোলনের লক্ষ্য কী ছিল?

উত্তর: ওয়াহাবি আন্দোলনের লক্ষ্য : ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলন অনেকগুলি লক্ষ্য নিয়ে গড়ে উঠেছিল।

[1] ইসলাম ধর্মের কুসংস্কার দূর করা : ইসলাম ধর্মের কুসংস্কার দূর করার জন্য ওয়াহাবি আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল।

[2] ইসলামের রাজ্য প্রতিষ্ঠা : স্থানীয় বিধর্মী শাসক ও ব্রিটিশদের তাড়িয়ে ভারতে ইসলামিক ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা করা ওয়াহাবি আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।

11. ‘বাঁশের কেল্লা’ কে নির্মাণ করেন এবং কেন?

উত্তর: উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনগুলির মধ্যে ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল অন্যতম। ১৮২০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ বছর ধরে এই আন্দোলন চলেছিল।

বাঁশের কেল্লা : বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতা তিতুমির জমিদার, মহাজন, নীলকর ও ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করেন। বারাসত-বসিরহাটের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ইংরেজ শাসনের অবসানের কথা বলে তিনি নিজেকে স্বাধীন ‘বাদশাহ’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বারাসতের নারকেলবেড়িয়া গ্রামে একটি ‘বাঁশের কেল্লা’ নির্মাণ করেন। এটি ছিল আন্দোলন সংগঠনের প্রধান কেন্দ্রস্বরূপ।

12. ফরাজি আন্দোলনের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ফরাজি আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য : ফরাজি আন্দোলনের দুটি বৈশিষ্ট্য হল—

[1] ধর্মীয় আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও পরে তা রাজনৈতিক নানা আন্দোলনে পরিণত হয়।

[2] ফরাজি আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল দরিদ্র কৃষিজীবী মুসলিম শ্রেণি।

13. দুদু মিঞা স্মরণীয় কেন?

উত্তর: ফরাজি আন্দোলনের প্রবর্তক হলেন হাজি শরিয়ৎউল্লাহ। ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে হাজি শরিয়ৎউল্লাহ-র মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মহম্মদ মহসিন বা দুদু মিঞা ফরাজি আন্দোলনের পরিচালক হন।

স্মরণীয় হওয়ার কারণ :

[1] দুদু মিঞার তত্ত্ব ছিল বৈপ্লবিক। তিনি বলতেন, ‘জমি আল্লাহের দান। সুতরাং, জমির উপর কর ধার্য করার অধিকার কারও নেই।

[2] সুদক্ষ সংগঠক দুদু মিঞা বাংলাদেশে তার প্রভাবিত অঞ্চলে ‘ফরাজি-খিলাফৎ’ নামে এক প্রশাসন গড়ে তোলেন।

[3] তিনি বাংলাদেশকে কয়েকটি হল্কায় বিভক্ত করে প্রতি হল্কায় একজন করে খলিফা নিযুক্ত করেন, যার দায়িত্ব ছিল ওই হল্কায় জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার প্রতিহত করা। দুদু মিঞার নেতৃত্বে ফরাজিরা জমিদার ও নীলকরদের আক্রমণ করে ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল।

14. নীল বিদ্রোহের কারণ কী ছিল?

উত্তর: বাংলার নীলচাষিরা ১৮৫৯-৬০ খ্রিস্টাব্দে নীলচাষ না করার জন্য যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল, তা নীল বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

নীল বিদ্রোহের কারণ :

[1] নীলকর সাহেবদের অত্যাচার : নীলকর সাহেবরা নীলচাষিদের নানাভাবে অত্যাচার করে নীলচাষ করতে বাধ্য করত। নীলকর সাহেবদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে চাষিরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল।

[2] দাদন প্রথা : নীলকর সাহেবরা নীলচাষিদের দাদন বা অগ্রিম নিতে বাধ্য করত এবং একবার অগ্রিম নিলে চাষিরা সারাজীবন নীলচাষ করতে বাধ্য থাকত।

15. নীল বিদ্রোহে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কীরূপ ছিল ?

উত্তর: বিষ্বচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাসের নেতৃত্বে শুরু হওয়া নীল বিদ্রোহের সময় কলকাতার শিক্ষিত মধ্যবিত্তশ্রেণির অধিকাংশ লোক বিদ্রোহ সম্পর্কে উদাসীন থাকলেও কয়েকজন শিক্ষিত হৃদয়বান ব্যক্তি নীলচাষিদের সমর্থনে কলম ধরেন।

নীল বিদ্রোহে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা : ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকার সম্পাদক হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় নীল বিদ্রোহের প্রতি সহমর্মী অবস্থান নিয়েছিলেন। নীলচাষিদের দুর্দশা এবং নীলকরদের অত্যাচার সম্পর্কে সুচিন্তিত প্রবন্ধ রচনা করে তিনি সরকারের চোখ খুলে দেন। ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকায় লেখা হয়েছিল—

[1] যে চাষি একবার নীলচাষ করেছে, বেঁচে থাকতে তার আর মুক্তি পাওয়ার উপায় নেই।

[2। নীলচাষে কোনো চাষিই ন্যায্য দাম পায় না। নীলচাষে লাভের চেয়ে ক্ষতি হয় বেশি ইত্যাদি।

মূলত হরিশচন্দ্রের উদ্যোগেই নীল বিদ্রোহের খবরাখবর বাংলায় শিক্ষিত জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল।

16. ‘অষ্টম আইন’ কী?

উত্তর: নীল বিদ্রোহের তীব্রতায় নীলচাষিদের অভাব-অভিযোগ ও নীলচাষ সম্পর্কে অনুসন্ধানের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে নীল কমিশন গঠন করে। এই কমিশন তার প্রতিবেদনে জানায় যে, নীলকর সাহেবরা চাষিদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের দিয়ে নীলচাষ করাতে উত্তর পারবে না।

অষ্টম আইন :

[1] ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ‘অষ্টম আইন’ পাস করে নীলচুক্তি আইন রদ করা হয়।

[2] অষ্টম আইন পাসের ফলে নীলকর সাহেবদের অত্যাচার থেকে চাষিরা রেহাই পায়। এই আইনে নীলচাষকে চাষিদের ইচ্ছাধীন মাঝে ম বলে ঘোষণা করা হয়।

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ৪ ): তৃতীয় অধ্যায়ঃ "প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022

1. টীকা লেখো : কোল বিদ্রোহ।

উত্তর: কোল বিদ্রোহ : কোলরা হল বিহারের ছোটোনাগপুর অঞ্চলে বসবাসকারী উপজাতি। তারা ইংরেজ, দেশীয় মহাজন, জমিদার বা বহিরাগত ‘দিকু’-দের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করেছিল, তা ইতিহাসে কোল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে কোলরা প্রথম বিদ্রোহ করে। ১৮৩১-৩২ খ্রিস্টাব্দে কোল বিদ্রোহ ব্যাপক আকার ধারণ করে।

কোল বিদ্রোহের কারণ : এই বিদ্রোহের কারণগুলি হল—

[1] অত্যধিক রাজস্ব আদায় : ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছোটোনাগপুর অঞ্চলের শাসনভার গ্রহণের পর এই অঞ্চলে বসবাসকারী কোলদের উপর নতুন হারে অতিরিক্ত ভূমিরাজস্ব দাবি করে। এর ফলে কোলরা ক্ষুব্ধ হয়।

[2] জমিদার ও মহাজনদের শোষণ ও অত্যাচার : ছোটোনাগপুর অঞ্চলে জমিদার ও মহাজনরা বিভিন্নভাবে কোলদের উপর শোষণ ও অত্যাচার চালায়। কোলরা অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তির জন্য বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

বিদ্রোহ : ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে রাঁচি অঞ্চলে কোল সম্প্রদায়ের কৃষকরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই বিদ্রোহ ক্রমে রাঁচি, সিংভূম, হাজারিবাগ, পালামৌ ও মানভূম-এর পশ্চিম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

  • বিদ্রোহী কোলরা তিরধনুক, বর্শা, বল্লম, কুড়ুল ইত্যাদি অস্ত্রশস্ত্র কার এই নিয়ে ইংরেজ বাহিনীর মুখোমুখি রুখে দাঁড়ায়। তারা ওই অঞ্চলের ইংরেজ কর্মচারী, জমিদার, মহাজন ও অত্যাচারী দিকু ব্যবসায়ীদের আক্রমণ করে। বিদ্রোহীরা তাদের হত্যা করে ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।

বিদ্রোহের নেতা : এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বুদ্বু ভগত, জোয়া ভগত, সুই মুণ্ডা ও ঝিন্দরাই মানকি প্রমুখ।

বিদ্রোহ দমন : ব্রিটিশ সরকার বিদ্রোহ দমন করার জন্য কলকাতা, পাটনা, দানাপুর, সম্বলপুর থেকে সৈন্য এনে এই অঞ্চলের বিদ্রোহ দমনের জন্য মোতায়েন করে। আধুনিক অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত ব্রিটিশ গোলন্দাজ বাহিনীর সঙ্গে অসম লড়াইতে কোলরা পরাজিত হয়। নরনারী ও শিশু-সহ অসংখ্য কোল নিহত হয় এবং কোল বিদ্রোহ দমিত হয়।

উপসংহার : কোল বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও ব্রিটিশ সরকার ছোটোনাগপুর অঞ্চলে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি নামে একটি নতুন অঞ্চল গঠন করে। এই অঞ্চলে জমিদারদের হাত থেকে জমি গ্রামপ্রধানদের হাতে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে। ব্রিটিশ সরকার এই অঞ্চলে তাদের আইনকানুন কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

2. ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সাঁওতালরা বিদ্রোহ করেছিল কেন?

উত্তর: ভূমিকা : সাঁওতালরা হল কঠোর পরিশ্রমী শান্তিপ্রিয় এক কৃষিজীবী আদিবাসী সম্প্রদায়। সাঁওতাল-সহ বিভিন্ন উপজাতির মানুষদের কাছে মহাজন, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, খ্রিস্টান মিশনারি-সহ সকল প্রকার বহিরাগতদের পরিচয় ছিল ‘দিকু’ নামে। ১৮৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহল পাহাড়ের প্রান্তদেশে ‘দামিন-ই-কোহ’ অঞ্চলের সাঁওতালরা ‘দিকু’-দের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল, তা সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। সাঁওতাল বিদ্রোহ নানা কারণে সংঘটিত হয়েছিল।

বিদ্রোহের কারণ :

[1] অত্যধিক হারে ভূমিরাজস্ব আদায় : দামিন-ই-কোহ অঞ্চলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিযুক্ত জমিদাররা অত্যধিক হারে emp ভূমিরাজস্ব আদায় করে। একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এই অঞ্চলে ১৮ বছরে ১০ গুণ খাজনা বৃদ্ধি করা হয়। অত্যধিক হারে খাজনা মেটাতে নাজেহাল সাঁওতালরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

[2] মহাজনদের শোষণ : কোম্পানির নতুন ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থায় নগদ অর্থে খাজনা দিতে হত। সাঁওতালরা এই নগদ অর্থ সংগ্রহের জন্য মহাজনদের কাছে ঋণ নিত। মহাজনরা সাঁওতালদের ঋণ দেওয়ার সুযোগে শতকরা ৫০-১০০ হারে সুদ আদায় করত। তা ছাড়াও তারা নানা কৌশলে সাঁওতালদের শোষণ করত। এতে সাঁওতালরা ক্ষুব্ধ হয়।

[3] ইংরেজ কর্মচারী ও ঠিকাদারদের অত্যাচার : লর্ড ডালহৌসি-ও ন-এর আমলে রাজমহল, রামপুরহাট, ভাগলপুর প্রভৃতি অঞ্চলে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হয়। ওই অঞ্চলে এই কাজের জন্য বিভিন্ন কর্মচারী ও ঠিকাদারদের আগমন ঘটে। এরা নানাভাবে সাঁওতালদের উপর অত্যাচার করত। এরা নামমাত্র মজুরিতে সাঁওতালদের দিয়ে কাজ করাত। তাদের বাড়ির হাঁস, মুরগি, ছাগল কেড়ে নিত এমনকি নারীদের সম্মানহানিতেও পিছপা হত না। এতে সাঁওতালরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

[4] সাঁওতাল সমাজে ব্রিটিশ আইন প্রবর্তন : সাঁওতালরা তাদের প্রচলিত নিজস্ব সামাজিক নিয়মে পরিচালিত হত। ব্রিটিশ সরকার সাঁওতালদের উপর ব্রিটিশ আইন ও বিচারব্যবস্থা কার্যকর করে। ফলে সাঁওতালদের চিরাচরিত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়।

[5] ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি : বেশি দামে জিনিসপত্র বিক্রি করা, জোর করে দাম না দিয়ে বা স্বল্পমূল্যে খেতের ফসল কেনা, বাটখারাতে কারচুপি করা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীরাও সাঁওতালদের শোষণ করত।

উপসংহার : এ ছাড়া বহিরাগত বা দিকু-দের দ্বারা সাঁওতাল রমণীদের নির্যাতন ও তাদের প্রতি অসম্মানজনক ব্যবহার, মিশনারিদের দ্বারা ধর্মান্তরিত করার অপচেষ্টা প্রভৃতি কারণেও সাঁওতালরা দিকুদের উপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হয়ে বিদ্রোহের পথ বেছে নেয়।

3. মুণ্ডা বিদ্রোহ সম্পর্কে আলোচনা করো।

অথবা, টীকা লেখো : মুণ্ডা বিদ্রোহ (১৮৯৯-১৯০০ খ্রি.)

উত্তর: ভূমিকা : বর্তমান ঝাড়খণ্ডের ছোটোনাগপুরের রাঁচি ও সিংভূম অঞ্চলে মুণ্ডারা বসবাস করত। ১৮৯৯-১৯০০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকারের শোষণ ও অত্যাচারী দিকুদের বিরুদ্ধে মুণ্ডারা যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, তা মুণ্ডা বিদ্রোহ নামে পরিচিত। একে মুণ্ডা উলগুলান বলেও অভিহিত করা হয়।

বিদ্রোহের কারণ : মুণ্ডা বিদ্রোহের কারণগুলি হল—

[1] মুণ্ডাদের যৌথ কৃষিব্যবস্থায় ভাঙন : মুণ্ডারা জঙ্গল পরিষ্কার করে কৃষিকাজ করত। ব্রিটিশ আমলে তাদের যৌথ কৃষিব্যবস্থা বা খুৎকাঠি প্রথার অবসান ঘটিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানার ব্যবস্থা চালু করায় মুণ্ডারা ক্ষুব্ধ হয়।

[2] মুণ্ডা অধ্যুষিত অঞ্চলে ব্রিটিশ আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রচলন: মুণ্ডারা তাদের নিজস্ব আইন ও বিচারব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত হত। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুণ্ডাদের উপর ব্রিটিশ আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রয়োগ করলে মুণ্ডারা ক্ষুব্ধ হয় ও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

বিদ্রোহ : মুণ্ডারা ব্রিটিশ কর্মচারী, জমিদার, মহাজন, ধর্মপ্রচারক প্রভৃতি ব্যক্তির উপর বিভিন্ন কারণে ক্ষুব্ধ হয় এবং ঐক্যবদ্ধভাবে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

  • মুণ্ডারা খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
  • তারা তাদের এলাকা থেকে অত্যাচারী দিকুদের তাড়িয়ে দেয়।
  • ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বিরসা ও তাঁর অনুগামীরা রাঁচি ও সিংভূম জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও গির্জা আক্রমণ করে।

নেতা : মুণ্ডা বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন বিরসা মুণ্ডা।

বিদ্রোহ দমন : ১৮৯৯-১৯০০ খ্রিস্টাব্দে মুণ্ডা বিদ্রোহ প্রবল আকার ধারণ করলে ব্রিটিশ সরকার এই বিদ্রোহ দমন করার জন্য সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে। ব্রিটিশ বাহিনীর দমনপীড়নের ফলে মুণ্ডাদের পরাজয় ঘটে। বিরসা বন্দি হন এবং ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের ৯ জুন বন্দি অবস্থায় বিরসার মৃত্যু হয়।

উপসংহার : মুণ্ডা বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ব্রিটিশ সরকার ছোটোনাগপুর অঞ্চলে প্রজাস্বত্ব আইন (১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ) পাস করে মুণ্ডাদের জমিতে ‘খুৎকাঠি স্বত্ব’ পুনঃপ্রবর্তন করেন। মুণ্ডাদের এলাকায় দিকুদের শোষণ ও অত্যাচার নিয়ন্ত্রণ করা হয় ও বেগার প্রথার অবসান ঘটানো হয়। পরবর্তীকালে বিরসার অনুগামীরা বিরসা সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করে।

4. টীকা লেখো : সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ (১৭৬৩-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ) 

উত্তর: ভূমিকা : ভারতবর্ষে কোম্পানির শাসনে ইংরেজদের শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সন্ন্যাসী ও ফকিররা ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যে বিদ্রোহে শামিল হয়েছিল, তা ইতিহাসে সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ নামে পরিচিত। মুঘল যুগের শেষদিকে ভ্রাম্যমাণ সন্ন্যাসী ও ফকিরগণ বাংলা ও বিহার অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করে কৃষির মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করত। কোম্পানির আমলে বিভিন্ন কারণে তারা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল।

সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের কারণ : সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের কারণগুলি হল—

[1] অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়: ইংরেজ কোম্পানির কর্মচারীরা কৃষিজীবী সন্ন্যাসীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করার ফলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

[2] তীর্থকর আরোপ : সন্ন্যাসী ও ফকিররা মাঝে মাঝে দলবদ্ধভাবে নিজ নিজ তীর্থক্ষেত্রে তীর্থ করতে যেত। কোম্পানির আমলে ইংরেজরা তাদের উপর তীর্থকর আরোপ করায় তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

বিদ্রোহ : বিদ্রোহী সন্ন্যাসী ও ফকিররা কোম্পানির কুঠি, জমিদারের কাছারি, রাজস্ব দপ্তর প্রভৃতির উপর আক্রমণ চালিয়েছিল। বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হয়েছিলেন ইংরেজ সেনাপতি ক্যাপটেন এডওয়ার্ডস। এই বিদ্রোহ রংপুর, দিনাজপুর, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়া প্রভৃতি অঞ্চলে সম্প্রসারিত হয়েছিল।

নেতৃবৃন্দ : সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ হলেন মজনু শাহ, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরাণী, চিরাগ আলি প্রমুখ ব্যক্তিরা।

বিদ্রোহের ব্যর্থতা : শেষপর্যন্ত সাম্প্রদায়িক বিভেদ, সাংগঠনিক ত্রুটি এবং নেতৃবর্গের অভিজ্ঞতার অভাবের ফলে এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়েছিল।

মূল্যায়ন : পরিশেষে বলা যায়, গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এই বিদ্রোহকে ‘পেশাদার ডাকাতদের উপদ্রব’ বলে ব্যঙ্গ করলেও এটি প্রকৃতপক্ষে ছিল একটি কৃষক বিদ্রোহ। লেস্টর হ্যাচিনসন এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ ছিল ‘শতবর্ষ পরে সংঘটিত বাংলার বিপ্লববাদী আন্দোলনের অগ্রদূত’।

5. টীকা লেখো : ওয়াহাবি আন্দোলন।

উত্তর: ওয়াহাবি আন্দোলন : উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনগুলির মধ্যে ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল অন্যতম। ১৮২০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ বছর ধরে এই আন্দোলন চলেছিল। ভারতে এই আন্দোলনের বিস্তার ঘটেছিল পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, বাংলা, মাদ্রাজ প্রভৃতি অঞ্চলে।

উৎপত্তি: ওয়াহাবি আন্দোলনের উদ্ভব হয় আরব দেশে। আবদুল ওয়াহাব ছিলেন এই আন্দোলনের প্রবর্তক। তাঁর নাম অনুসারেই এই কলহের আন্দোলনের নামকরণ করা হয় ওয়াহাবি।

‘ওয়াহাবি’ শব্দের অর্থ : ওয়াহাবি শব্দের অর্থ নবজাগরণ।

আন্দোলনের লক্ষ্য : এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল—

[1] ইসলামধর্মের বিকৃতি দূর করে তার পুনরুজ্জীবন ঘটানো।

[2] ‘দার-উল-হারব’ বা বিধর্মীর দেশ ভারতকে ‘দার-উল-ইসলাম’ বা ধর্মরাজ্যে পরিণত করা।

ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলন : ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলন শুরু করেন দিল্লির বিখ্যাত মুসলিম সন্ত শাহ ওয়ালিউল্লাহ (১৭০৩-৮৭ খ্রি.) এবং তাঁর পুত্র আজিজ। অবশ্য ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রায়বেরিলির সৈয়দ আহমদ। তিনি আজিজের সংস্পর্শে এসে ইসলামধর্মের মধ্যে শুদ্ধিকরণ’ আন্দোলন শুরু করেন। তিনি তাঁর গুরু আজিজের মতো ঘোষণা করলেন যে, ইংরেজ শাসিত ভারত হল ‘দার-উল-হারব’, সুতরাং ইংরেজদের উচ্ছেদ করে একে ‘দার-উল-ইসলাম’ বা ধর্মরাজ্যে পরিণত করতে হবে। তিনি ইংরেজবিরোধী আদর্শ প্রচার করলেও পাঞ্জাবের শিখদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ আহমদ ‘বালাকোটের যুদ্ধে’ শের সিংহের হাতে পরাজিত ও নিহত হন।

আন্দোলনের অবসান : সৈয়দ আহমদের মৃত্যুর পর তাঁর সুযোগ্য শিষ্য এনায়েত আলি ও বিলায়েত আলি ওয়াহাবি আদর্শ প্রচার করেন। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকারের দমননীতির ফলে ওয়াহাবি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

6. ফরাজি আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণগুলি উল্লেখ করো।

অথবা, ফরাজি আন্দোলন কেন ব্যর্থ হয়েছিল ?

উত্তর: ভূমিকা : ফরাজি আন্দোলনে দরিদ্র মুসলিম কৃষকশ্রেণি যোগ দিলেও তা শেষপর্যন্ত শ্রেণিসংঘর্ষে রূপান্তরিত হয়। উইলিয়ম হান্টার এই প্রসঙ্গে বলেছেন— ফরাজি আন্দোলন ছিল একটি শ্রেণিসংঘর্ষ।

ব্যর্থতা: ফরাজি আন্দোলন শেষপর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল বেশ কয়েকটি কারণে—

[1] সংহতির অভাব : সংকীর্ণ ধর্মবোধ দ্বারা এই আন্দোলন পরিচালিত হওয়ায় উদারপন্থী মুসলমান সমাজ এই আন্দোলন থেকে দূরে সরে থাকে। ফলে সংহতির অভাবে এই আন্দোলন ব্যর্থ হয়।

[2] জনবিচ্ছিন্নতা : গণসমর্থনের অভাব ছিল এই আন্দোলনের ব্যর্থতার অন্যতম একটি কারণ। মুসলমান অভিজাত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ কেউই এই আন্দোলনের প্রতি আগ্রহ দেখাননি।

[3] লক্ষ্যহীনতা : কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য না থাকায় এই আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছিল। প্রথমদিকে মুসলমানদের উন্নয়ন, পরবর্তী সময়ে নীলচাষ ও জমিদারি প্রথার উচ্ছেদের লক্ষ্য নিয়ে এই আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল।

[4] সীমাবদ্ধতা : এই আন্দোলন একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এ ছাড়াও ইংরেজ, নীলকর, জমিদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যে অর্থ, লোকবল, যুদ্ধ উপকরণ ও মানসিকতার প্রয়োজন ছিল, তা বিদ্রোহীদের ছিল না।

মূল্যায়ন : ফরাজিদের প্রচেষ্টা পরবর্তী প্রজন্মকে বিদ্রোহের প্রেরণা জুগিয়েছিল। কেবল মুসলমানরাই নয়, হিন্দু কৃষকরাও এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল।

7. নীল বিদ্রোহের কারণ কী ছিল?

উত্তর: বাংলার নীলচাষিরা ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে নীলকর সাহেবদের নীলচাষের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, তা ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহ তৎকালীন নদিয়া জেলার চৌগাছা গ্রামে শুরু হয়ে ক্রমে মালদহ, মুরশিদাবাদ, পাবনা, ফরিদপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিদ্রোহের ব্যাপকতার ফলে সরকার নীল কমিশন গঠন করে চাষির দুর্দশা নিরসনের চেষ্টা করে।

নীল বিদ্রোহের কারণ : নীল বিদ্রোহের কারণগুলি হল নিম্নরূপ —

[1] নীলকর সাহেবদের অত্যাচার : নীলকর সাহেবরা নীলচাষ করানোর জন্য চাষিদের উপর অত্যাচার করত। তারা অনিচ্ছুক চাষিদের কুঠিতে আটকে রাখত, প্রহার করত, চাষের সরঞ্জাম লুঠ করত, তাদের ঘরে ও শস্যে আগুন লাগিয়ে দেওয়া ইত্যাদি নানাভাবে তাদের অত্যাচার করত। নীলকর সাহেবদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নীলচাষিরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

[2] দাদন প্রথা : নীলকর সাহেবরা চাষিদের নীলচাষ করার জন্য দাদন বা অগ্রিম অর্থ দিত। অভাবের ফলে অনেক চাষি এই অগ্রিম নিতেও বাধ্য হত। তারা প্রতি বিঘায় ২ টাকা অগ্রিম দিয়ে চাষিকে সবচেয়ে ভালো জমিতে নীলচাষ করতে বাধ্য করত। একবার কেউ দাদন নিলে সে আর নীলচাষ না করে বেরিয়ে আসতে পারত না। কোনো চাষি দাদন নিতে না চাইলে তার গোরুবাছুর নীলকুঠিতে আটকে রেখে তাকে দাদন নিতে বাধ্য করা হত।

[3] ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের পঞ্চম আইন : ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার পঞ্চম ও সপ্তম আইন পাস করে জানায় যে, কোনো চাষি দাদন নিয়ে নীলচাষ না করলে তাদের গ্রেফতার করা হবে ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

        পরে একাদশ আইন পাস করে বলা হয় যে, নীলকরদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে কোনো চাষি নীলচাষ না করলে তাকে বিঘা প্রতি ১০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই আইনের ফলে নীলচাষিদের উপর অত্যাচার বহুমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে চাষিরা বিদ্রোহী হয়ে উঠতে বাধ্য হয়েছিল।

[4] নীলচাষিদের প্রতি অবিচার : অত্যাচারিত নীলচাষিরা নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে আইন ও আদালতের শরণাপন্ন হলেও সুবিচার পেত না। কারণ— আইন ছিল নীলকরদের পক্ষে। তা ছাড়া ব্রিটিশ প্রশাসন ও পুলিশও নীলকর সাহেবদের পক্ষে ছিল। ফলে চাষিদের বিদ্রোহ করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা ছিল না। উপরোক্ত কারণগুলির ফলস্বরূপ নীলচাষিরা দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষুচরণ বিশ্বাসের নেতৃত্বে নীলকরদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

8. নীল বিদ্রোহের ফলাফল লেখো।

উত্তর: ভূমিকা : ১৮৫৯-৬০ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত নীল বিদ্রোহ বাংলা তথা ভারতের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নীল বিদ্রোহের ফলাফল : এই বিদ্রোহের ফলে নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলি লক্ষ করা যায়—

[1] নীল কমিশন গঠন : নীল বিদ্রোহের ব্যাপকতা লক্ষ করে সরকার বাধ্য হয়ে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে নীল কমিশন গঠন করে। এই কমিশন নীলচাষকে নীলচাষিদের ইচ্ছাধীন বলে ঘোষণা করে।

[2] পুঁজি বিনিয়োগ পরিবর্তন : নীল বিদ্রোহে এবং সরকারি হস্তক্ষেপে আশঙ্কিত হয়ে নীলকররা নীলচাষ থেকে পুঁজি সরিয়ে নিয়ে তা অন্যত্র বিনিয়োগ করতে বাধ্য হয়।

[3] প্রেরণা দান : শিশির কুমার ঘোষ লিখেছেন, নীল বিদ্রোহই সর্বপ্রথম দেশের মানুষকে রাজনৈতিক সংঘবদ্ধতার প্রেরণা জুগিয়েছিল। তাঁর মতে, নীল বিদ্রোহই সর্বপ্রথম ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ গণ আন্দোলন। এই বিদ্রোহের দ্বারা বাঙালি জাতির আত্মশক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়।

[4] শিক্ষিত মধ্যবিত্তশ্রেণির যোগদান : নীল বিদ্রোহকালে হরিশচন্দ্রমুখোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, শিশির কুমার ঘোষ-সহ বহু শিক্ষিত ব্যক্তিত্ব তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে জনমত গঠনে এগিয়ে এসেছিলেন। এর ফলে কৃষকদের সঙ্গে শিক্ষিত মধ্যবিত্তশ্রেণির যোগসূত্র গড়ে ওঠে।

[5] কৃষকদের সাফল্য : নীল বিদ্রোহের ফলে কৃষকরা নীলচাষ থেকে রেহাই পায়। নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে কৃষকদের এই সাফল্য বাংলার ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

উপসংহার : নীল বিদ্রোহ হল কৃষক বিদ্রোহের একটি সাফল্যমণ্ডিত অধ্যায়। এই বিদ্রোহ থেকে পরবর্তীকালের কৃষক চাষিদের বিদ্রোহগুলি অনুপ্রেরণা লাভ করেছিল।

ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ৮ ): তৃতীয় অধ্যায়ঃ "প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022

1. রংপুর বিদ্রোহের (১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দ) কারণ, বিস্তার ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করো।

অথবা, টীকা লেখো : রংপুর বিদ্রোহ।

2. ওয়াহাবি আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল? তিতুমিরের নেতৃত্বে বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করো।

3. নীল বিদ্রোহ কবে এবং কাদের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল? বিদ্রোহটির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

4. সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দ) সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

অথবা, ঔপনিবেশিক ভারতে সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২(2022) | দশম শ্রেণীর ইতিহাস –তৃতীয় অধ্যায়ঃ ” প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা ”  প্রশ্ন উত্তর 

Madhyamik History Suggestion 2022 ” মাধ্যমিক  ইতিহাস –  তৃতীয় অধ্যায়ঃ “প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা “MCQ প্রশ্ন উত্তর  “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik / WB Madhyamik / MP Exam / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE Madhyamik Exam / Madhyamik Bengali Suggestion 2022 / Madhyamik Class 10th / Class X / Madhyamik Pariksha) পরীক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে StudywithGenius.in এর পক্ষ থেকে মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ইতিহাস পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন (Madhyamik History Suggestion 2022 / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE History Suggestion / Madhyamik Class 10th History Suggestion / Class X History Suggestion / Madhyamik Pariksha History Suggestion / History Madhyamik Exam Guide / MCQ , Short , Descriptive  Type Question and Answer. / Madhyamik History Suggestion 2022 FREE PDF Download) উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করা হলাে। ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থীদের উপকারে লাগলে, আমাদের প্রয়াস  মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ইতিহাস পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন সফল হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.