StudyWithGenius

WBBSE Madhyamik History Suggestion 2022 (NEW Syllabus)- দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ সংস্কার: বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা | Chapter Wise Suggestion, PDF Download

Madhyamik History Suggestion 2022
মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২(2022) | দশম শ্রেণীর ইতিহাস – দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ” সংস্কার: বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা ”  প্রশ্ন উত্তর 

Madhyamik History Suggestion 2022 ” মাধ্যমিক  ইতিহাস –  দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ “সংস্কার: বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা”MCQ প্রশ্ন উত্তর  “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik / WB Madhyamik / MP Exam / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE Madhyamik Exam / Madhyamik Bengali Suggestion 2022 / Madhyamik Class 10th / Class X / Madhyamik Pariksha) পরীক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে StudywithGenius.in এর পক্ষ থেকে মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ইতিহাস পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন (Madhyamik History Suggestion 2022 / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE History Suggestion / Madhyamik Class 10th History Suggestion / Class X History Suggestion / Madhyamik Pariksha History Suggestion / History Madhyamik Exam Guide / MCQ , Short , Descriptive  Type Question and Answer. / Madhyamik History Suggestion 2022 FREE PDF Download) উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করা হলাে। ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থীদের উপকারে লাগলে, আমাদের প্রয়াস  মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ইতিহাস পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন সফল হবে।

Madhyamik History Suggestion 2022

Madhyamik History Suggestion 2022 (মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২) –দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ “সংস্কার: বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনাপ্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই Madhyamik History Suggestion 2022 (মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন) –দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ” সংস্কার: বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা ” MCQ, সংক্ষিপ্ত, অতিসংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর  গুলি আগামী সালের পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট। আপনারা যারা মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর  ইতিহাস 2022 পরীক্ষার সাজেশন খুঁজে চলেছেন, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্নপত্র ভালো করে পড়তে পারেন। এই পরীক্ষা তে কোশ্চেন গুলো আসার সম্ভাবনা খুব বেশি।

বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১): দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ "সংস্কার: বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022
1. 
বামাবোধিনী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন—

2. 
হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন—

3. 
'হুতোম পেঁচার নকশা' প্রথম প্রকাশিত হয় -

4. 
নীলদর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদের প্রকাশক ছিলেন -

5. 
ভারতে প্রথম পাশ্চাত্য শিক্ষার সূত্রপাত ঘটে—

6. 
মেকলে মিনিট প্রকাশিত হয়—

7. 
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন—

8. 
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম মহিলা স্নাতক হলেন -

9. 
প্রথম ভারতীয় মহিলা ডাক্তার ছিলেন—

10. 
মেয়েদের মধ্যে প্রথম এমএ পাস করেন—

11. 
‘হান্টার কমিশন' গঠন করেন—

12. 
‘স্ত্রীশিক্ষা বিধায়ক’ গ্রন্থ রচনা করেন—

13. 
সতীদাহপ্রথা রদ হয়—

14. 
বিধবা পুনর্বিবাহ আইন' পাস হয়—

15. 
তত্ত্ববোধিনী সভা’-র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন—

16. 
'বর্তমান ভারত' রচনা করেন—

 

 

Thank You

 

 

 

 

 

 

Join our social networks below and stay updated with latest contests, videos, internships and jobs!
YouTube | LinkedIn | Instagram | Facebook | Pinterest

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ১): দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ "সংস্কার: বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022

1.  বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম মাসিক সাময়িকপত্রের নাম কী?

উত্তর: বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম মাসিক সাময়িকপত্রের নাম হল দিগদর্শন।

2. বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা কী ছিল?

উত্তর: উনিশ শতকে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল সমাচার দর্পণ।

3. প্রথম দৈনিক বাংলা সংবাদপত্র কোনটি ?

উত্তর: প্রথম দৈনিক বাংলা সংবাদপত্র হল সংবাদ প্রভাকর।

4. ‘সম্বাদ কৌমুদী’-র সম্পাদনা কে করেন?

উত্তর: ‘সম্বাদ কৌমুদী’-র সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায় (১৮২১ খ্রিস্টাব্দে)।

5. হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

উত্তর: হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।

6. ‘হুতোম প্যাঁচার নক্শা’ গ্রন্থটি কে লিখেছিলেন?

উত্তর: ‘হুতোম প্যাঁচার নক্শা’ গ্রন্থটি কালীপ্রসন্ন সিংহ লিখেছিলেন।

7. ‘নীলদর্পণ’ নাটকটির রচয়িতা কে?

উত্তর: ‘নীলদর্পণ’ নাটকটির রচয়িতা হলেন দীনবন্ধু মিত্র।

8. ‘নীলদর্পণ’ নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ কে প্রকাশ করেন?

উত্তর: রেভারেন্ড জেমস লঙ ‘নীলদর্পণ’ নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন।

9. ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’-র সম্পাদক কে ছিলেন?

উত্তর: ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’-র সম্পাদক ছিলেন হরিনাথ মজুমদার (কাঙাল হরিনাথ)।

10. ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ কবে থেকে প্রকাশিত হয় ?

উত্তর: ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রকাশিত হয়।

11. কে ‘কলকাতা মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: ওয়ারেন হেস্টিংস ‘কলকাতা মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন (১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে)।

12. ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: স্যার উইলিয়ম জোনস ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন (১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে)।

13. ‘বারাণসী সংস্কৃত কলেজ’ কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?

উত্তর: ‘বারাণসী সংস্কৃত কলেজ’ জোনাথন ডানকান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন (১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে)।

14. ‘ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ” কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর: ‘ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ’ লর্ড ওয়েলেসলি প্রতিষ্ঠা করেন (১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।

15. কত খ্রিস্টাব্দে ‘মেকলে মিনিট’ পেশ করা হয়?

উত্তর: ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে ‘মেকলে মিনিট’ পেশ করা হয়।

16. ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ কাদের বলা হয়?

উত্তর: উইলিয়ম কেরি, মার্শম্যান এবং উইলিয়ম ওয়ার্ডকে একত্রে ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ বলা হয়।

17. শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।

18. ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি ডেভিড হেয়ার প্রতিষ্ঠা করেন।

19. কলকাতায় ‘জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: কলকাতায় ‘জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন’ প্রতিষ্ঠা করেন আলেকজান্ডার ডাফ (১৮৩০খ্রিস্টাব্দে)।

20. ‘শব্দকল্পদ্রুম’ নামক সংস্কৃত অভিধানের রচয়িতা কে?

উত্তর: ‘শব্দকল্পদ্রুম’ নামক সংস্কৃত অভিধানের রচয়িতা হলেন রাজা রাধাকান্ত দেব।

21. কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।

22. কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ অপর কী নামে পরিচিত ছিল?

উত্তর: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ জ্বর হাসপাতাল নামেও পরিচিত ছিল।

23. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কত খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয়?

উত্তর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয়।

24. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতক কারা?

উত্তর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতক হলেন যদুনাথ বোস এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

25. বাংলার প্রথম মহিলা স্নাতক কারা?

উত্তর বাংলার প্রথম মহিলা স্নাতক হলেন চন্দ্রমুখী বোস এবং কাদম্বিনী গাঙ্গুলি।

26. ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসকের নাম কী?

উত্তর: ভারতের প্রথম মহিলা চিকিৎসক হলেন কাদম্বিনী গাঙ্গুলি।

27. ‘ব্রাহ্মসভা’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: ‘ব্রাহ্মসভা’ প্রতিষ্ঠা করেন রাজা রামমোহন রায় (১৮২৮ খ্রিস্টাব্দের ২০ আগস্ট)।

28. ‘ব্রাষ্মসমাজ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: ‘ব্রাষ্মসমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন রাজা রামমোহন রায় (১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে)।

29. ‘আত্মীয়সভা’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: ‘আত্মীয়সভা’ রাজা রামমোহন রায় প্রতিষ্ঠা করেন (১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে)।

30. ‘সতীদাহ নিবারণ আইন’ কে পাস করেন?

উত্তর: ‘সতীদাহ নিবারণ আইন’ পাস করেন লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক (১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে)।

31. ‘আধুনিক ভারতের জনক’ কাকে বলা হয় ?

উত্তর: ‘আধুনিক ভারতের জনক’ বলা হয় রাজা রামমোহন রায়কে।

32. ‘নব্যবঙ্গ’ (ইয়ং বেঙ্গল) কাদের বলা হয়?

উত্তর: ডিরোজিও ও তাঁর অনুগামীদের ‘নব্যবঙ্গ’ বা ‘ইয়ং বেঙ্গল’ বলা হয়।

33. নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর দুজন সদস্যের নাম লেখো।

উত্তর: নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর দুজন সদস্যের নাম হল রামতনু লাহিড়ি এবং দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।

34. বিধবাবিবাহ আইন’ কবে পাস হয়?

উত্তর: ‘বিধবাবিবাহ আইন’ ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে পাস হয়।

35. ‘ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন ?

উত্তর: ‘ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ’ কেশবচন্দ্র সেন প্রতিষ্ঠা করেন (১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে)।

36. ইন্ডিয়ান মিরর’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

উত্তর: ইন্ডিয়ান মিরর’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কেশবচন্দ্র সেন।

37. “যত মত তত পথ” – এই মতের প্রবক্তা কে?

উত্তর: “যত মত তত পথ”—এই মতের প্রবক্তা ছিলেন শ্রীশ্রীরামকৃয় পরমহংসদেব।

38. রামকৃষ্ণ মিশন কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে)।

39. ‘ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক’ কাকে বলা হয় ?

উত্তর: ‘ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক’ বলা হয় স্বামী বিবেকানন্দকে।

40. স্বামী বিবেকানন্দের কয়েকটি গ্রন্থের নাম লেখো।

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের কয়েকটি গ্রন্থের নাম হল- বর্তমান ভারত, পরিব্রাজক, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ইত্যাদি।

41. লালন ফকিরের জন্ম কোথায় হয়?

উত্তর: ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া গ্রামে

লালন ফকিরের জন্ম হয়।

42. ‘গোঁসাইজি’ নামে কে পরিচিত ছিলেন?

উত্তর: ‘গোঁসাইজি’ নামে পরিচিত ছিলেন বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী।

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ২): দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ "সংস্কার: বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022

1. উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদ প্রসারে হিন্দু প্যাট্রিয়ট-এর অবদান লেখো।

উত্তর: উনিশ শতকের বাংলা তথা ভারতে জাতীয়তাবাদ প্রসারে হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

অবদান :

[1] ব্রিটিশ বিরোধিতা : ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু প্যাট্রিয়ট বাংলার নীলচাষিদের আন্দোলনকে সমর্থন ও নীলকরদের বিরোধিতা করে। এর সঙ্গে পত্রিকা ব্রিটিশ শাসননীতিরও বিরোধিতা করে।

[2] প্রতিবাদ : বিহার থেকে আসামে চা-শ্রমিক পাঠানোর বিরুদ্ধে এই পত্রিকা প্রতিবাদ জানায়। সাঁওতালদের বিরুদ্ধে ইংরেজদের অত্যাচার ও দমননীতি হিন্দু প্যাট্রিয়ট-এ প্রকাশ পেয়েছিল।

2. ‘হুতোম প্যাঁচার নক্শা’ থেকে কী ধরনের সমাজচিত্র পাওয়া যায় ?

উত্তর: হুতোম প্যাঁচা ছদ্মনামে লেখক কালীপ্রসন্ন সিংহ ‘হুতোম প্যাঁচার নক্শা’ গ্রন্থটি রচনা করেন। এই গ্রন্থ থেকে উনিশ শতকের কলকাতার নাগরিক জীবনের প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়।

সমাজচিত্র :

[1] বাবু ও মধ্যবিত্ত সংস্কৃতি : একদা ধনী ও অভিজাত শ্রেণির অবক্ষয় এবং নতুন গড়ে ওঠা মধ্যবিত্তশ্রেণির জীবনযাপন এই গ্রন্থে চিত্রিত হয়েছে। চড়ক, বারোয়ারি পূজা ইত্যাদি সামাজিক উৎসবে বাবুদের অর্থব্যয় ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ বর্ণিত হয়েছে।

[2] অন্যান্য শ্রেণি : এই গ্রন্থে ভৃত্য, কারিগর, গণিকা ও বিভিন্ন পেশার মানুষদের কথা বলা হয়েছে, তাদের জীবন ও জীবিকার বর্ণনাও আছে এখানে।

3. ‘’নীলদর্পণ’ নাটক থেকে কী ধরনের সমাজচিত্র পাওয়া যায় ?

উত্তর: নীলদর্পণ নাটক থেকেও উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ের বাংলার সমাজ সম্বন্ধে বহু তথ্য জানা যায়।

সমাজচিত্র :

[1] কৃষকদের দুর্দশা : বাংলার কৃষকদের এ সময় বিভিন্ন শোষণ, অত্যাচারের শিকার হতে হত। ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের নীলচাষ করতে বাধ্য করা হত। অগ্রিম দাদন, রাজি না হলে গোরু-ছাগল কেড়ে নেওয়া, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, নীলের দাম কম দেওয়া ইত্যাদি অবাধে চলত। সেই সামাজিক অত্যাচারের কাহিনি নাটকটিতে পাওয়া যায়।

[2] মধ্যবিত্তশ্রেণি : পাশ্চাত্য শিক্ষার ফলে বাংলাদেশে যে মধ্যবিত্তশ্রেণি গড়ে উঠেছিল তার পরিচয় নাটকের কয়েকটি চরিত্রের মধ্যে পাওয়া যায়।

4. হরিনাথকে ‘কাঙাল হরিনাথ’ বলা হয় কেন?

উত্তর: উনিশ শতকে গ্রামবাংলার সমাজজীবনের দর্পণ ছিল গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে হরিনাথ মজুমদার বা ‘কাঙাল হরিনাথ’ এই পত্রিকাটি প্রকাশ করেন।

‘কাঙাল হরিনাথ’ নামের তাৎপর্য :

[1] উনিশ শতকে পূর্ববঙ্গে পরিকাঠামোগত সমস্যা, পুঁজির অভাব সত্ত্বেও দুঃখকষ্ট সহ্য করে হরিনাথ মজুমদার গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা পত্রিকাটি প্রকাশের কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।

[2] স্কুলে শিক্ষকতার কাজ ছেড়ে দিয়ে পত্রিকা প্রকাশে তিনি মনোনিবেশ করেন। এই কারণে শেষ জীবনে তাঁকে অর্থকষ্টে ভুগতে হয়েছিল। তিনি গ্রামবাংলার মানুষদের সমব্যথী ছিলেন। তাই তিনি ‘কাঙাল হরিনাথ’ নামে পরিচিত হন।

5. চুঁইয়ে পড়া নীতি’ বা ‘Filtration Theory’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: চুঁইয়ে পড়া নীতি : পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের সূচনায় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, বাংলার উচ্চ ও মধ্যবিত্তশ্রেণির মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটানো হলে ওই উচ্চশিক্ষিত লোকেরা সাধারণ জনগণের মধ্যেও তার বিস্তার ঘটাবে। ফিলটারের জল যেমন উপর থেকে পরিশ্রুত হয়ে চুঁইয়ে নীচে নামে, তেমনই সমাজের উচ্চস্তর থেকে নিম্নস্তরে শিক্ষাবিস্তারের এই নীতিকেই চুঁইয়ে পড়া নীতি বা Filtration Theory বলা হয়ে থাকে।

6. ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব’ কী?

উত্তর: ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনে ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রাচ্য-পাশ্চাত্য শিক্ষা : এই সময় এদেশে দু-ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু ছিল। যেমন— 1. সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি ভাষা নিয়ে প্রাচ্য শিক্ষা এবং 2. ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষা।

প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব : জেমস প্রিন্সেপ প্রমুখ প্রাচ্য শিক্ষার পক্ষে এবং ট্রেভেলিয়ান প্রমুখ পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে ছিলেন। সরকার কর্তৃক বরাদ্দ ১ লক্ষ টাকা কোন্ খাতে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চলতে থাকে (১৮১৩-৩৫ খ্রি.), একে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব বলে। মেকলের মন্তব্যে এই দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে।

7. ‘মেকলে মিনিট’ কী? অথবা, ‘মেকলে প্রস্তাব’ কী?

উত্তর: মেকলে মিনিট : থমাস ব্যাবিংটন মেকলে ছিলেন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্কের আইনসচিব ও জেনারেল কমিটি অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন বা জনশিক্ষা কমিটির সভাপতি। মেকলে ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন পাশ্চাত্য শিক্ষার সমর্থক। তিনি ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্কের কাছে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের পক্ষে যে মিনিট বা প্রস্তাব পেশ করেন, তাকে মেকলে মিনিট বা মেকলে প্রস্তাব বলা হয়। মেকলের প্রস্তাব দ্বারা ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব’-এর অবসান ঘটে।

8. উড-এর ডেসপ্যাচ’কী? অথবা, উডের নির্দেশনামার দুটি সুপারিশ উল্লেখ করো।

উত্তর: বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি স্যার চার্লস উড ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতের শিক্ষাবিষয়ক নির্দেশনামা বা ডেসপ্যাচ জারি করেন।

নির্দেশনামা বা ডেসপ্যাচ :

[1] ভারতের তিনটি প্রেসিডেন্সি শহরে (কলকাতা, মাদ্রাজ, বোম্বাই) তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে।

[2] শিক্ষক-শিক্ষণ, ছাত্রদের মেধা অনুযায়ী বৃত্তিদানের ব্যবস্থা হবে।

[3] প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়া হবে।

[4] নারীশিক্ষাকে প্রসারিত করতে হবে ইত্যাদি।

গুরুত্ব : ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের ইতিহাসে এই নির্দেশনামা ছিল একটি মহাসনদ বা ম্যাগনাকার্টা।

9. ডেভিড হেয়ার স্মরণীয় কেন?

উত্তর: ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে যেসব বিদেশিরা উদ্যোগী হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ডেভিড হেয়ার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

শিক্ষাবিস্তারে অবদান : স্কটল্যান্ডের ঘড়িনির্মাতা ডেভিড হেয়ার এদেশে এসে শিক্ষাবিস্তারে উদ্যোগী হন। তিনি হেয়ার স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে। হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠাতেও তিনি সাহায্য করেন। স্কুল পাঠ্যবই প্রকাশের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি। মফস্সলে স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটিও গড়ে তোলেন ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে।

10. মধুসূদন গুপ্ত কে ছিলেন? অথবা, মধুসূদন গুপ্ত স্মরণীয় কেন?

উত্তর ভারতের আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে মধুসূদন গুপ্ত একটি স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব।

জন্ম : মধুসূদন গুপ্ত ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার বৈদ্যবাটীতে জন্মগ্রহণ করেন।

অবদান : তৎকালীন পরিস্থিতিতে কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে তথা সমাজে পতিত হওয়ার ভয়ে কোনও ছাত্র শবব্যবচ্ছেদে এগিয়ে আসতেন না। কিন্তু ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দের ২৮ অক্টোবর রাজকৃ দে, উমাচরণ শেঠ-সহ আরও কয়েকজনের সহায়তায় মধুসূদন গুপ্ত প্রথম শবব্যবচ্ছেদ করেন। এই উপলক্ষ্যে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ থেকে তোপধ্বনির মাধ্যমে মধুসূদনকে অভিনন্দন জানানো হয়। মধুসূদন গুপ্তের কয়েকটি অনুবাদ গ্রন্থ হল— বাংলায় লেখা ‘London Pharmacopoeia’ এবং সংস্কৃতে লেখা ‘Anatomist Vade Mecum’ প্রভৃতি।

11. ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: রাজা রামমোহন রায় ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রাত্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীকালে ব্রাহ্মসমাজ নামে পরিচিত হয়।

ব্রাহ্ণসমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য :

1. এক ও অদ্বিতীয় ব্রষ্মের উপাসনা করা।

2. বৈদান্তিক হিন্দুধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

3. হিন্দুধর্মের নামে যেসব কুসংস্কার ও অন্যায়-অবিচার প্রচলিত ছিল তা উচ্ছেদ করা ।

12. নব্যবঙ্গ আন্দোলনের গুরুত্ব কী?

উত্তর: হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও-র অনুগামীরা নব্যবঙ্গ নামে পরিচিত।

গুরুত্ব :

[1] সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে : সমাজের বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, সতীদাহ প্রভৃতি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

[2] নবজাগরণের ক্ষেত্রে : নব্যবঙ্গ দলের সত্যানুসন্ধানী মনোভাব, সংস্কারমূলক কার্যাবলি উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণকে সমৃদ্ধ করে।

13, ‘তিন আইন’ কী ?

উত্তর: উনিশ শতকে বাংলায় সমাজসংস্কার আন্দোলনের জোয়ার এসেছিল। রাজা রামমোহন রায় ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মসমাজ-এর আন্দোলন এসময় বিশেষ সাফল্যলাভ করেছিল। পরবর্তীকালে কেশবচন্দ্র সেনের উদ্যোগে ব্রাহ্মসমাজের আন্দোলনে গতি সঞ্চারিত হয়।

তিন আইন :

[1] কেশবচন্দ্র সেনের সক্রিয় আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে একটি আইন পাস করে। এটি তিন আইন নামে পরিচিত।

[2] এই আইন পাসের ফলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ নিষিদ্ধ এবং অসবর্ণ বিবাহ আইনসিদ্ধ হয়। ধীরে ধীরে হিন্দুসমাজের কুসংস্কারগুলি বিলুপ্ত হতে থাকে এবং মহিলা ও সাধারণ মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

14. স্বামী বিবেকানন্দের ‘নব্য বেদান্তবাদ’ কী?

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মীয় দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নব্য বেদান্তবাদ।

নব্য বেদান্ত: রামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন, “যত মত তত পথ” এবং “শিবজ্ঞানে জীবসেবা”। গুরুদেবের বাণীকে বাস্তবায়িত করার জন্য বিবেকানন্দ বলেন, “বনের বেদান্তকে ঘরে আনতে হবে।” এর অর্থ ভারতের আধ্যাত্মিক শক্তির সঙ্গে পাশ্চাত্যের কর্মযোগকে যুক্ত করতে হবে। ফলে এক নতুন ভারত গড়ে উঠবে।

বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ৪ ): দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ "সংস্কার: বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022

1. হুতোম প্যাঁচার নক্শা’— এরকম নামকরণ করা হয়েছিলকেন? 

উত্তর: হুতোম প্যাঁচার নক্শা হল কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। এটি ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি পত্রিকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপাত্মক সামাজিক নক্শা জাতীয় রচনা। এটি তৎকালীন ভূমিকা সমাজের ফন্দিফিকির করে অর্থ উপার্জন করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিদ্রুপ করে লেখা।

নামকরণ: হুতোম প্যাঁচার নক্শা-র রচয়িতা কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম ছিল হুতোম প্যাঁচা। নক্শা শব্দের অর্থ হল হাস্যরসাত্মক রচনা বা ব্যঙ্গচিত্র। তাই কালীপ্রসন্ন সিংহ তাঁর রচিত ও তিনি নক্শার নামকরণ করেন হুতোম প্যাঁচার নক্শা।

নামকরণের কারণ : কালীপ্রসন্ন সিংহের একটি সার্থক রচনা হুতোম প্যাঁচার নক্শা। প্যাঁচা নিশাচর পাখি। সে রাতের অন্ধকার জগতের সব খবর জানে। যেসব মানুষের মানসিকতা দুরকম— সকলের সামনে ভালো আবার আড়ালে খারাপ অথবা দিনে ভালো, রাতের এডিটর অন্ধকারে খারাপ; তাদের কুকীর্তি ফাঁস করতে প্যাঁচার জুড়ি নেই।

আবার মানুষ হুতোম প্যাঁচার ডাকে ভয় পায়। তাই কালীপ্রসন্ন সিংহ তাঁর সমকালের ধনী সমাজের ভণ্ডামি ও কপটতা প্রকাশ করতে যেসব নক্শা লিখেছেন তার নামকরণ করেছেন হুতোম প্যাঁচার নকশা।

2. টীকা লেখো : কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ।

উত্তর: ভূমিকা : কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হল ভারতে আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যা চর্চার প্রথম প্রতিষ্ঠান। এটি ভারত তথা এশিয়ার প্রথম ইউরোপীয় চিকিৎসাবিদ্যার কলেজ।

কমিটি গঠন ও সুপারিশ : ভারতের বড়োলাট লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক বাংলার চিকিৎসাবিদ্যা বিষয়ে চার্লস গ্রান্টের সভাপতিত্বে ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে একটি কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি ভারতে পাশ্চাত্য চিকিৎসাবিদ্যা প্রদানের সুপারিশ করে।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা : কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন ড. এম জে ব্রামলি। পরে ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে এই কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল যুক্ত হয়। এই কলেজ প্রতিষ্ঠায় জমি দান করেন মতিলাল শীল।

প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য : কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যগুলি হল—

[1] ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যায় দক্ষ করে তোলা।

[2] দেশের বিভিন্ন চিকিৎসা ক্ষেত্রে চিকিৎসকের জোগান দেওয়া ইত্যাদি।

পঠন-পাঠন : এই কলেজে শিক্ষার্থীদের ৪ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত পড়াশোনা করতে হত। এরপর তাদের ডিগ্রি দেওয়া হত।

উপসংহার: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র এবং চিকিৎসক – শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ভারতবর্ষের চিকিৎসাশিক্ষার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

3. টীকা লেখো : ডিরোজিও।

উত্তর: উনিশ শতকের বাংলার সমাজ সংস্কারকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। তিনি ইঙ্গ-পোর্তুগিজ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও নিজেকে ‘ভারতীয়’ বলেই মনে করতেন।

প্রথম জীবন : ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় এক অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছেলেবেলায় স্কটিশ বৈষম্যম সাহেব ডেভিড ডুমন্ড প্রতিষ্ঠিত ‘ধর্মতলা আকাডেমি’-তে শিক্ষালাভ করেন।

শিক্ষকতা : ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ডিরোজিও  হিন্দু কলেজে ইতিহাসের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। তাঁর দেশপ্রেম, যুক্তিবাদ, সত্যের প্রতি নিষ্ঠার জন্য তিনি ছাত্রদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

‘নব্যবঙ্গ’ গোষ্ঠী গঠন : ডিরোজিও তাঁর অনুগামীদের নিয়ে নব্যবঙ্গ বা ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী গঠন করেন। এর উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন— রামতনু লাহিড়ি, রামগোপাল ঘোষ, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

কার্যকলাপ : ডিরোজিও সমাজসংস্কারের উদ্দেশ্যে অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন সমাজ সংস্কারমূলক মতামত প্রচারের জন্য পার্থেনন পত্রিকাও প্রকাশ করেন।

         তিনি বাংলার সমাজে প্রচলিত জাতিভেদ প্রথা, অস্পৃশ্যতা, মূর্তিপূজা, নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ প্রভৃতির বিরোধিতা করেন।

হিন্দু কলেজ থেকে বহিষ্কার : ডিরোজিও ও তাঁর নব্যবঙ্গ দল কুসংস্কারের বিরুদ্ধে উগ্র প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করে। এর ফলে তাঁকে হিন্দু কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মৃত্যু : ডিরোজিও ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ২৩ বছর বয়সে মারা যান।

4. টীকা লেখো: স্বামী বিবেকানন্দ।

উত্তর: শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন নবভারতের রূপকার ও আত্মবিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক। তিনি অধ্যাত্মচেতনা ও দেশপ্রেমকে সমন্বিত করেছিলেন। তিনি পরাধীন ভারতের মানুষকে দেবদেবীদের বাদ দিয়ে ভারতমাতাকে আরাধ্যা দেবীরূপে ভাবতে বলেন। তাঁর ধর্ম ছিল ‘Man making religion’ বা মানুষ তৈরির ধর্ম। এই উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন পথ ও মত অবলম্বন করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— বর্তমান ভারত, পরিব্রাজক, জ্ঞানযোগ, রাজযোগ প্রভৃতি।

বিবেকানন্দের অবদান :

প্রতিষ্ঠাতা : তিনি ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন রামকৃষ্ণ মিশন, যাকে নবভারতের আনন্দমঠ বলা হয়। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে শিকাগো বিশ্বধর্ম সম্মেলনে অদ্বৈত বেদান্তের জয়গান করে দেশে ফিরে তিনি রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল মানবসেবা।

কুসংস্কার ও অনাচারের বিরোধিতা : জাতিভেদ, ধর্মীয় কুসংস্কার, সামাজিক অনাচার, অশিক্ষা, অসাম্য ইত্যাদির বিরুদ্ধে তিনি মানুষকে সোচ্চার হতে বলেছিলেন। তিনি বলতেন, কুসংস্কারহীন সমাজ নতুন দেশগঠনে সহায়তা করবে।

সমন্বয়ের আদর্শ : স্বামীজি প্রাচ্য-পাশ্চাত্য, প্রাচীন ও আধুনিক মতাদর্শ, ধনী-দরিদ্র সবার সহযোগিতায় এক নবভারত গড়তে চেয়েছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেন, দেশের প্রকৃত শক্তি হল দেশের শ্রমজীবীরাই।

জাতীয়তাবাদের অগ্রদূত : স্বামীজি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে না এলেও স্বাধীনতার একজন উগ্র সমর্থক ছিলেন। ঋষি অরবিন্দ-এর মতে, “বিবেকানন্দই আমাদের জাতীয় জীবনের গঠনকর্তা”।

উপসংহার : স্বামীজি দেশের মুক্তির জন্য যুবকদের উপর বিশেষভাবে নির্ভর করেছিলেন। অধ্যাপক আর জি প্রধান তাঁকে ‘ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রশ্নমান – ৮ ): দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ "সংস্কার: বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা" প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২২ – Madhyamik History Suggestion 2022

1. উনিশ শতকের নারীকল্যাণে ‘বামাবোধিনী পত্রিকা’-র অবদান আলোচনা করো।

2. উনিশ শতকে বাংলায় নারীশিক্ষার বিস্তার সম্পর্কে লেখো।

3. নারীশিক্ষার প্রসারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা করো।

4. উচ্চশিক্ষার বিকাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আলোচনা করো।

5. সমাজসংস্কার আন্দোলনে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান আলোচনা করো। অথবা, উনিশ শতকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নবজাগরণে রাজা রামমোহন রায়ের যে ভূমিকা ছিল, তা বিশেষভাবে আলোচনা করো।

মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ২০২(2022) | দশম শ্রেণীর ইতিহাস – দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ” সংস্কার: বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা ”  প্রশ্ন উত্তর 

Madhyamik History Suggestion 2022 ” মাধ্যমিক  ইতিহাস –  দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ “সংস্কার: বৈশিষ্ট ও পর্যালোচনা”MCQ প্রশ্ন উত্তর  “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik / WB Madhyamik / MP Exam / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE Madhyamik Exam / Madhyamik Bengali Suggestion 2022 / Madhyamik Class 10th / Class X / Madhyamik Pariksha) পরীক্ষায় এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে StudywithGenius.in এর পক্ষ থেকে মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ইতিহাস পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন (Madhyamik History Suggestion 2022 / West Bengal Board of Secondary Education – WBBSE History Suggestion / Madhyamik Class 10th History Suggestion / Class X History Suggestion / Madhyamik Pariksha History Suggestion / History Madhyamik Exam Guide / MCQ , Short , Descriptive  Type Question and Answer. / Madhyamik History Suggestion 2022 FREE PDF Download) উপস্থাপনের প্রচেষ্টা করা হলাে। ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থীদের উপকারে লাগলে, আমাদের প্রয়াস  মাধ্যমিক (দশম শ্রেণী) ইতিহাস পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন সফল হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

X